পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা
Published : 22 Oct 2025, 06:45 PM
অভিষিক্ত আসিফ আফ্রিদির রেকর্ডগড়া বোলিংয়ে লিড পাওয়ার পথেই ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তাদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন সেনুরান মুথুসামি ও কাগিসো রাবাদা। শেষ জুটিতে এই দুইজনের দৃঢ়তায় উল্টো অভাবনীয়ভাবে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। পরে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে তারা চেপে ধরল স্বাগতিকদের।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের ঘটনাবহুল তৃতীয় দিন শেষে অবশ্য ২৩ রানে এগিয়ে আছে পাকিস্তান। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রান তুলতে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে তারা।
৭ চারে ৪৯ রান করে অপরাজিত আছেন বাবর আজম। তার সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান খেলছেন ১৬ রানে।
৪ উইকেটে ১৮৫ রান নিয়ে নতুন দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস থামে ৪০৪ রানে। শেষ উইকেটে মুথুসামি ও রাবাদার ৯৮ রানের জুটিতে ৭১ রানের লিড পায় তারা।
অল্পের জন্য ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পাননি মুথুসামি। ৬ চারে ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। ১১ নম্বরে নেমে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারে প্রথম টেস্ট ফিফটির স্বাদ পান রাবাদা। চারটি করে ছক্কা-চারে ৬১ বলে ৭১ রান করেন তিনি।
১১৯ বছরের বেশি পুরনো একটি রেকর্ড ভাঙেন রাবাদা। টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সুদীর্ঘ ইতিহাসে ১১ নম্বরে নেমে তার ৭১ রানই সর্বোচ্চ। এই পজিশনে আগের সেরা ইনিংসটি ছিল বার্ট ভোগলারের। ১৯০৬ সালের মার্চে কেপ টাউনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
রাবাদা-মুথুসামির জুটির প্রতিরোধ ভাঙা আসিফ আফ্রিদি ৭৯ রানে নেন ৬ উইকেট। ৩৮ বছর ২৯৯ দিন বয়সে টেস্ট খেলতে নেমে এই বাঁহাতি স্পিনার এখন এই সংস্করণের ইতিহাসে অভিষেকে সবচেয়ে বেশি বয়সে ৫ উইকেট শিকারি বোলার।
আগের রেকর্ডটি ছিল ইংলিশ লেগ স্পিনার চার্লস ম্যারিয়টের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওভালে ৩৭ বছর ৩৩২ দিন বয়সে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট ও পরের ইনিংসে ৬টি নিয়েছিলেন তিনি।
দিনের চতুর্থ বলে কাইল ভেরেইনাকে কট বিহাইন্ড করে দেন আফ্রিদি। ৬৮ রান নিয়ে খেলতে নেমে ৮ রান যোগ করে আফ্রিদির বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ট্রিস্টান স্টাবস। পরের ওভারে সাইমন হার্মারকে ফিরিয়ে এই স্পিনার পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট।
প্রথম সেশনে মার্কো ইয়ানসেনকেও হারালে দক্ষিণ আফ্রিকার রান দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৩৫ রান। সেখান থেকে নবম উইকেটে ৭১ রানের জুটি গড়েন কেশাভ মহারাজ ও মুথুসামি। ৩ চারে ৩০ রানে করে নোমান আলির বলে স্টাম্পড হন মহারাজ।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ৩৩৩ রান থেকে তখনও ২৭ রান পিছিয়ে প্রোটিয়ারা। এরপর, রাবাদাকে নিয়ে ব্যবধান ঘুচিয়ে দলকে লিড এনে দেন ৮৮ বলে ফিফটি করা মুথুসামি।
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তাদের জুটিতে অগ্রণী ছিলেন রাবাদা। মুখোমুখি চতুর্থ বলে নোমানকে চার মেরে ঝড় শুরু করেন তিনি। পরে সাজিদকে সুইপ করে ওড়ান ছক্কায়। শাহিন শাহ আফ্রিদির টানা দুই বলে ছক্কা ও চারের পর সাজিদকে ফের ছক্কা মারেন রাবাদা। টি-টোয়েন্টি ঘরানার ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি।
পঞ্চাশ ছোঁয়ার পরও চলে তার তাণ্ডব। সালমান আলি আগার বল উড়িয়ে বাউন্ডারির বাইরে ফেলেন তিনি। আসিফ আফ্রিদির বলে ছক্কার চেষ্টায় রাবাদা লং-অনে ধরা পড়লে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। সঙ্গীর অভাবে সেঞ্চুরি থেকে ১১ রান দূরে থাকতে মাঠ ছাড়তে হয় মুথুসামিকে।
দ্বিতীয় দফায় ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। পরপর তিন ওভারে টপ অর্ডার তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।
চতুর্থ ওভারে ইমাম-উল-হাককে এলবিডব্লিউ করেন সাইমন হার্মার। শান মাসুদকে রানের খাতা খুলতে দেননি এই অফ স্পিনার। রাবাদার বলে স্লিপে ধরা পড়েন আবদুল্লাহ শাফিক।
সাউদ শাকিলকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান বাবর আজম। ৪৩ বলে ১১ রান করা শাকিলকে ফিরিয়ে ৪৪ রানের জুটি ভাঙেন হার্মার। বাকি সময় নিরাপদে কাটিয়ে দেন বাবর ও রিজওয়ান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৩৩
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ১১৯.৩ ওভারে ৪০৪ (আগের দিন ১৮৫/৪) (স্টাবস ৭৬, ভেরেইনা ১০, মুথুসামি ৮৯*, হার্মার ২, ইয়ানসেন ১২, মহারাজ ৩০, রাবাদা ৭১; শাহিন আফ্রিদি ২৬-২-৯৫-১, নোমান ২৮-৩-৯২-২, আসিফ আফ্রিদি ৩৪.৩-৬-৭৯-৬, সাজিদ ২৯-৩-১১৯-১, সালমান ২-০-১০-০)
পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ৩৫ ওভারে ৯৪/৪ (ইমাম ৯, শাফিক ৬, মাসুদ ০, বাবর ৪৯, শাকিল ১১, রিজওয়ান ১৬; রাবাদা ৫-১-২২-১, হার্মার ১৩-৩-২৬-৩, মহারাজ ১০-১-৩০-০, মুথুসামি ৪-০-১১-০, ইয়ানসেন ৩-১-৫-০)