Published : 01 May 2026, 05:20 PM
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় চলে এলো সিরিজ। কিন্তু অনাহূত অতিথি এখানেও সঙ্গী। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর সিরিজের শেষ ম্যাচেও থাকছে সেই চোখরাঙানি। ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশের অনুশীলনও ছিল শঙ্কায়। আকাশের মুখ তখনও গুমড়ো। আদৌ মাঠে অনুশীলন হবে কি না, নাকি স্রেফ ইনডোরে সীমাবদ্ধ থাকবে, এই দোলাচল ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মাঠেই অনুশীলন হলো।
দুপুরে নিউ জিল্যান্ড দলের অনুশীলন হলো ভালোভাবেই। দুই দলই এখন তৈরি শেষের লড়াইয়ের জন্য। সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টি শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু শনিবার দুপুর ২টায়।
তৃতীয় ম্যাচের বাংলাদেশ স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে অনুশীলন শেষে ম্যাচের আগের সন্ধ্যায়। তব সেটা স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। দল অপরিবর্তিতই আছে।
শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিতে খেলা না হলেও বাংলাদেশ সিরিজ জিতে যাবে। তবে সেই জয়ে নিশ্চয়ই তৃপ্তি সবটুকু থাকবে না। খেলেই সিরিজ জয়ের তাড়না থাকবে বেশি। বিশেষ করে, টি-টোয়েন্টিতে যেভাবে সামনে এগিয়ে চলেছে দল, সেই পথ ধরে ছুটতে হলেও প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচ যেভাবে জিতেছে দল, সেখানে দলটির নতুন উচ্চতায় পা রাখার একটি বার্তা ছিল। সেসব পোক্ত করার জন্যও মাঠের খেলা জরুরি, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিতা জরুরি।
প্রথম ম্যাচে দারুণ পাল্টা আক্রমণে দলের জয়ের নায়কদের একজন শামীম হোসেন শেষ ম্যাচের আগের দিন বললেন, সেই জয়ের রেসিপি ধরেই সিরিজ জিততে চান তারা।
“(প্রথম ম্যাচে) আমরা ভালো খেলতে পেরেছি, ইন্টেন্ট দেখাতে পেরেছি, পরের ম্যাচে এটা ধরে রাখতে চাই।”
“আমাদের ভালো একটি সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। অবশ্যই চাইব জেতার জন্য খেলার।”

দ্বিতীয় ম্যাচটি ভেস্তে যাওয়ায় বাংলাদেশের পরিকল্পনায় খানিকটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে। প্রথম দুটি ম্যাচই পুরোপুরি হলে হয়তো শেষ ম্যাচে আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে বাজিয়ে দেখতে পারত দল। এখন সেই সুযোগটা কমে এসেছে। পেস আক্রমণে অবশ্য তার পরও একটি পরিবর্তন এলে তা বিস্ময়কর কিছু হবে না। কোনো একজনের বদলে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনকে দেখা যেতেই পারে।
নিউ জিল্যান্ডের আর সিরিজ জয়ের সুযোগ নেই। শেষ ম্যাচটি জিতলে সিরিজ ড্র করে ফিরতে পারবে তারা। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট বললেন, প্রথম ম্যাচের শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে তারা সিরিজে সমতা ফেরাতে চান।
“শেষ ম্যাচটা বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। এখানে এসে সিরিজে সমতায ফেরানোর একটা সুযোগ আমরা পেয়েছি। দলের আবহ বেশ ভালো, সবাই ইতিবাচক আছে। প্রথম ম্যাচের পর ভাবার জন্য আমরা কয়েকদিন সময় পেয়েছি। ওই ম্যাচে আমরা অনেক কিছুই ভালো করেছি এবং অবশ্যই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের নানা কিছু ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।”
“আমরা দল হিসেবে চেষ্টা করেছি, নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার এবং আমরা জানি, কোন কোন বিষয়ে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। আজ আমাদের অনুশীলন আছে এবং আশা করি আমরা আগামীকালের জন্য প্রস্তুত হতে পারব।”
চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা অধিনায়ক টম ল্যাথাম শেষ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন কি না, জানা যায়নি। তবে ম্যাচের আগের দিন তিনি অনুশীলন করেননি। কাজেই ম্যাচেও তার মাঠে নামার সম্ভাবনা কম।
এই সিরিজের পর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের খানিকটা বিরতি। এই মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ব্যস্ত থাকবেন দীর্ঘ পরিসরের দলের ক্রিকেটাররা। টি-টোয়েন্টিতে পরের সিরিজ আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিউইদের বিপক্ষে জয় দিয়ে শেষ করতে পারলে এই বিরতি হবে মধুর, পরের সিরিজের জন্যও মিলবে প্রেরণা।