১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাদুকরি বোলিংয়ে আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার বুমরাহ

পঞ্চম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন জাসপ্রিত বুমরাহ।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jan 2025, 07:32 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:40 AM

বল হাতে স্বপ্নের মতো একটি বছর কাটানোর আরেকটি দারুণ স্বীকৃতি পেলেন জাসপ্রিত বুমরাহ। প্রথমবারের মতো আইসিসির বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হলেন ভারতের তারকা ফাস্ট বোলার। জিতলেন মর্যাদার ‘স্যার গ্যারফিল্ড সোবার্স ট্রফি।’

গণমাধ্যম প্রতিনিধি, আইসিসি ভোটিং একাডেমি এবং সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত ২০২৪ সালের বর্ষসেরা পুরুষ ক্রিকেটারের নাম মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে আইসিসি।

সেরার লড়াইয়ে বুমরাহ হারিয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট, হ্যারি ব্রুক ও অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেডকে।

ভারতের প্রথম পেসার ও পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন বুমরাহ। ২০০৪ সালে রাহুল দ্রাবিড়, ২০১০ সালে সাচিন টেন্ডুলকার, ২০১৬ সালে রাভিচান্দ্রান অশ্বিন, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ভিরাট কোহলি পুরস্কারটি পান। 

আগের দিন ভারতের প্রথম পেসার হিসেবে বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের পুরস্কারও জেতেন ৩১ বছর বয়সী বুমরাহ। 

গত বছর বুমরাহর টেস্টের পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। ১৩ টেস্টে ১৪.৯২ গড়ে তিনি উইকেট নেন ৭১টি। তার অনেকটা পেছনে থেকে বছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ উইকেট নিতে পারেন ইংলিশ পেসার গাস অ্যাটকিনসন। 

টেস্ট ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে ১৫ এর নিচে বোলিং গড়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে অন্তত ৭০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন বুমরাহ। প্রথম বোলার হিসেবে চার হাজারের কম রান দিয়ে ২০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। ভারতীয় পেসার হিসেবে দ্রুততম ২০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও তারই। 

টেস্ট বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা বুমরাহ বছর শেষ করেন ৯০৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। অশ্বিনকে পেছনে ফেলে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি রেটিং পয়েন্ট অর্জনের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির প্রথম টেস্টে পার্থে নিয়মিত অধিনায়ক রোহিত শার্মার অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ও ৮ উইকেট নিয়ে তিনিই ছিলেন জয়ের নায়ক।

৩-১ ব্যবধানে হারা ওই সিরিজে ভারতের হয়ে মূলত লড়াই করেন তিনিই। পাঁচ টেস্টে ১৩.০৬ গড়ে উইকেট নেন ৩২টি, ভারতীয় বোলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় এক সিরিজের যা সর্বোচ্চ। সিরিজে ৯ ইনিংসে বোলিং করে ৫ উইকেটের দেখা পান তিনি তিনবার, ৪ উইকেট দুইবার।

বছরে টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি ৮টি, সবগুলোই যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে। যেখানে ওভারপ্রতি ৪.১৭ করে রান দিয়ে উইকেট নেন ১৫টি। টুর্নামেন্ট জুড়ে অসাধারণ পারফর্ম করে শুধু সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারই জেতেননি, ১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভারতের শিরোপা জয়েও তার ছিল বড় ভূমিকা।

বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১৯ রানের পুঁজি নিয়েও ভারত জয় পায় বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ে। ৪ ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা হন তিনি।

ফাইনালে ৫ উইকেট হাতে রেখে শেষ ১৮ বলে দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার যখন ২২ রান, ১৮তম ওভারে স্রেফ ২ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন বুমরাহ। শেষ পর্যন্ত ভারত জিতে যায় ৭ রানে।

গত বছর কোনো ওয়ানডে ম্যাচ তিনি খেলেননি। অবশ্য ভারত এই সংস্করণে ওই বছর ম্যাচই খেলে স্রেফ তিনটি।