Published : 05 May 2026, 10:14 AM
সুনিল গাভাস্কার যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তার ধারাভাষ্যেই সেটি ফুটে উঠছিল। জাসপ্রিত বুমরাহ টানা দুটি ‘নো’ বল করেছেন, এটা মানতেই পারছিলেন না তিনি। কিন্তু সেটিই এখন বাস্তব। শুধু টানা দুটি নয়, চার ওভারে এ দিন তিনটি ‘নো’ বল করেছেন বুমরাহ। তার গোটা মৌসুমের একটু প্রতীকি চিত্র বলা যায় এটিকে!
এমনিতে বুমরাহর বোলিং নিয়ে ‘অবিশ্বাস্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে অসংখ্যবার। জাদুকরি বোলিংয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে তিনি সেসব আদায় করে নিয়েছেন। চাপের মধ্যে, বড় মঞ্চে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অসাধারণ বোলিং করেছেন। সেই বুমরাহ এবারের আইপিএলেও অবিশ্বাস্য পারফর্ম করছেন। তবে সেটা উল্টো দিক থেকে। টানা এতটা বিবর্ণ, এতটা ধারহীন তাকে কবে দেখা গেছে, গবেষণা হতে পারে।
লাক্ষ্নৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে সোমবার চার ওভারে ৪৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি বুমরাহ। চলতি আইপিএলে এরকম বোলিংই হয়ে উঠেছে তার নিয়মিত চিত্র।
মৌসুমের শুরুটাই তার ছিল বাজে। অবিশ্বাস্যভাবে প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা ছিলেন উইকেটশূন্য। আইপিএল ক্যারিয়ারে আগে যা কখনও হয়নি তার।
ষষ্ঠ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন একটি। মৌসুমে প্রথমবারের মতো মনে হয়েছিল, হয়তো ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন। কিন্তু পরে আবার সেই একই অবস্থা।
দেখতে দেখতে আর ফর্মে ফেরার আশায় থাকতে থাকতে ১০ ম্যাচ তিনি খেলে ফেললেন এবার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে। উইকেট নিতে পেরেছেন মোটে ৩টি। বোলিং গড় ১০৯.৬৬। ওভারপ্রতি রান দিয়েছে ৮.৮৯।
ওভারপ্রতি রান দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কতটা দুঃস্বপ্নের মতো কাটছে তার মৌসুমটি। এমনিতে অনেক সময় বুমরাহ উইকেট না পেলেও খরুচে থাকেন না। তাকে নিরাপদে পার করে দিতে চায় প্রতিপক্ষগুলো। এবার সেই বুমরাহ যেন রান দেওয়ার মেশিন। গত ১০ বছরে এতটা খরুচে তাকে দেখা যায়নি আইপিএলে।
২০১৫ আইপিএলে মাত্র ৪টি ম্যাচ খেলতে পেরেছিলেন। সেবার রান দিয়েছিলেন ওভারপ্রতি ১২.২৬। ২০১৩ আসরে অভিষেক আইপিএলে ২ ম্যাচ খেলে রান দিয়েছিলেন ওভারপ্রতি ১০ করে। ওই দুটি নজির বাদ দিলে আইপিএলে এক আসরে বুমরাহর সবচেয়ে খরুচে বোলিং এবারই।
চারটি ম্যাচে ওভারপ্রতি রান দিয়ে ফেলেছেন দশের বেশি। গোটা আইপিএল ক্যারিয়ারে আগে কোনো মৌসুমে এত বেশি ম্যাচে ওভারপ্রতি দশের বেশি রান দেননি তিনি।
তার বোলিং দেখে মনে হচ্ছে, তিনি খুব ক্লান্ত-শ্রান্ত। কোনোরকমে যেন শরীরটাকে টেনে নিয়ে বল করছেন।
তাকে অচেনা মনে হয়েছে আরও একটি জায়গাতেও। ১০ ম্যাচে এবার নো বল করেছেন তিনি আটটি!
লাক্ষ্নৌর বিপক্ষে যখন টানা দুটি ‘নো’ বল করলেন সোমবার, ধারাভাষ্যে গাভাস্কার বললেন, “ডোন্ট টেল মি… ডোন্ট টেল মি… দয়া করে আমাকে বলবেন না যে, বুমরাহ আবার নো বল করেছে! এটা গ্রহণযোগ্য নয়। কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের কাছ থেকে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়াইড হলে আমি বুঝি, কিন্তু নো বল, কোনোভাবেই নয়…!”
১৪তম ওভারে বুমরাহ পরপর দুটি নো বল করার পর টিভি ক্যামেরা ঘুরে যায় মুম্বাইয়ের প্রধান কোচ মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে এবং বোলিং কোচ লাসিথ মালিঙ্গার দিকে। দেখে মনে হচ্ছিল তারা স্তম্ভিত, চোখেমুখে ছিল হতাশার স্পষ্ট ছাপ।
ক্যামেরা যখন মালিঙ্গার দিকে তাক করা হয়, গাভাস্কার বলেন, “হ্যাঁ, বোলিং কোচ। এটা বিশাল নো বল…।”
এটিই এবারের আইপিএলের বুমরাহ। তার বোলিংটা স্রেফ হচ্ছে না এবার।