শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলের অংশগ্রহণ, বগুড়ার বিএনপি নেতা বহিষ্কার
“শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।”
এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীর বাবাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বগুড়া মহানগর বিএনপি।
বহিষ্কৃত ফারুক হোসেন বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য এবং বগুড়া শহর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
তবে তার অভিযোগ, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এর পেছনে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ রয়েছে।
বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি জানান,
মঙ্গলবার রাতে বগুড়া মহানগর বিএনপির এক বিজ্ঞপ্তিতে ফারুক হোসেনকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সে অংশ নেয়।
দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহরের সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সিফাত হোসেনের সঙ্গে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাগ্বিতণ্ডা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত আসে।
বহিষ্কৃত নেতা ফারুক হোসেন বলেন, “আমার ছেলের বয়স ১৮ বছর। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এর আগে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।”
ফারুক হোসেনের দাবি, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে বহিষ্কারের কারণ জানতে চাইলে বগুড়া মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই ফারুক হোসেনকে মহানগর ও জেলা বিএনপি-উভয় সাংগঠনিক কাঠামো থেকেই বহিষ্কার করা হয়েছে।’
