Published : 06 May 2026, 05:25 PM
দুই প্রান্তের পপিং ক্রিজে সাদা দাগ দেওয়া ছিল বলে বোঝা গেল, এটিই উইকেট। নইলে শের-ই-বাংলার সবুজ প্রান্তর থেকে উইকেট আলাদা করাই কঠিন! টেস্ট শুরুর দুই দিন আগে দেখা গেল, তাজা সবুজ ঘাসে ভরা ২২ গজ। ম্যাচের আগের দিন ও ম্যাচের সকালে দুই দফায় ঘাস ছেঁটে দেওয়া হবে নিশ্চিতভাবেই। তার পরও যথেষ্ট ঘাস রয়ে যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে, ব্যাটসম্যানদের অপেক্ষায় কঠিন চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান মিরপুর টেস্টের জন্য যে উইকেট বেছে নেওয়া হয়েছে, সেটিকে বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স বলছেন ‘ভালো উইকেট।’ উইকেটে ঘাস থেকে পাকিস্তানি পেসার শাহিদ শাহ আফ্রিদি বলছেন, তারা চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি।
মিরপুরে সবশেষ টেস্ট হয়েছে গত নভেম্বরে। একদম স্পিন স্বর্গ ছিল না সেই উইকেট। তবে সহায়তা ছিল বেশ। আয়ারল্যান্ডের ২০ উইকেটের ১৪টিই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। আগে নানা সময়ে এখানে মন্থর ও টার্নিং উইকেট দেখা গেছে। এবার যে পরিকল্পনা ভিন্ন, সেটি তো উইকেটের চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।
গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে খেলেছিল বাংলাদেশ। সিরিজটি বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। সেই জয় হয়তো টিম ম্যানেজমেন্টকে সাহস জুগিয়েছে টেস্টেও একই ধরনের উইকেট বেছে নিতে।
এই উইকেট দেখে দুই দলেরই পেসারদের জিভে জল আসার কথা। তেমনি ব্যাটসম্যানদের মনেও শঙ্কার চোরাস্রোত বয়ে যেতে পারে। তাদের কাজটা তো হবে কঠিন!
ঘাস যদি আরও ছাঁটা হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্পোর্টিং উইকেট থাকে, তাহলে ব্যাটসম্যানদের বধ্যভূমি হয়তো হবে না তা। তবে শুরুতে তাদের কাজটা কঠিনই হবে। টিকে থাকলে এবং স্কিল ও ধৈর্য মেলে ধরলে সম্ভব হবে বড় স্কোর গড়া।
ব্যাটসম্যানদের সেই চ্যালেঞ্জটাই নিতে বলছেন সিমন্স। বাংলাদেশের শক্তির জায়গা এখন পেস আক্রমণ। দুর্ভাবনার জায়গা ব্যাটিং। ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে পারবে বলেই আশা তার।
“ঘরের মাঠের কন্ডিশন বলতে বোঝাতে চাইছেন, জানি না। পিচটা বেশ ভালো হবে এবং তাদের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটিংয়ের কৌশলটা গুছিয়ে নিতে হবে। র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠতে হলে এই সব সেরা বোলারদের বিপক্ষে খেলতেই হবে। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা জানি যে, তাদের বিপক্ষে আমাদের দীর্ঘক্ষণ ব্যাট করতে হবে এবং বড় স্কোর করার চেষ্টা করতে হবে। তাই সবাই এখন বড় স্কোর করার মানসিকতায় আছে, যা একটি ভালো দিক।”
ওয়ানডে সিরিজের অভিজ্ঞতা থেকেই হয়তো পেস-স্পিন সব বিভাগে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে পাকিস্তান। স্পিন আক্রমণে যেন নোমান আলি ও সাজিদ খান আছেন, তেমনি পেস আক্রমণেও আছেন শাহিদ শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ আব্বাস, হাসান আলি, খুররাম শাহজাদ ও আমাদ বাট। সেই পেসারদের একজন, আফ্রিদি বেশ খুশিই এরকম উইকেট দেখে।
“বাংলাদেশ যখনই দেশের মাঠে খেলেছে আগে, সবসময়ই স্পিন ট্র্যাকেই খেলেছে। আমরাও দেশের মাঠে খেললে কন্ডিশনে কারণে স্পিনকে কাজে লাগাই, কারণ প্রতিপক্ষ দলগুলি স্পিন খুব ভালো খেলতে পারে না।”
“এখানে উইকেট সবুজ, এই কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ কাজে লাগাতেও আমাদের বোলাররা প্রস্তুত যে, কীভাবে এখানে উইকেট নিতে হয় এবং পাকিস্তানের জন্য ম্যাচ জিততে হয়।”
মিরপুর টেস্ট শুরু শুক্রবার।