Published : 29 Dec 2025, 01:59 PM
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সোমবার ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। আরও বেশ কজনের মতোই সেখানে ছিলেন না উসমান খাওয়াজা। তবে না থেকেও যেন থাকলেন তিনি। তাকে নিয়ে আলোচনা হলো অনেক। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড জানালেন, সিডনি টেস্টে নিশ্চিতভাবেই খেলছেন খাওয়াজা। কিন্তু এরপর? সেই উত্তর জানা নেই কারও।
অ্যাশেজের পর টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ বিরতি পড়বে অস্ট্রেলিয়ার। পরের সিরিজটি তারা খেলবে আগামী অগাস্টে দেশের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে। প্রশ্নটা উঠছে সেজন্যই। ৩৯ পেরিয়ে যাওয়া খাওয়াজা কি থাকবেন আট মাস পরের সিরিজে?
খাওয়াজা এবারের অ্যাশেজ শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মূল ওপেনার হিসেবে। যদিও এ বছর তার পারফরম্যান্স ভালো নয় খুব একটা। তবে বিকল্প ছিল না বলে তিনিই ছিলেন ভরসা। কিন্তু প্রথম টেস্ট থেকেই বদলে যায় চিত্র। ফিল্ডিংয়ের সময় পিঠের সমস্যায় মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রথম ইনিংসে তিনি ওপেন করতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়েই নামতে পারেননি।
পিঠের সমস্যায় পরের টেস্ট থেকে তিনি ছিটকে পড়েন। তার বদলে ওপেন করে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলের নায়ক হয়ে গেলেন ট্রাভিস হেড। এই সিরিজেই অভিষিক্ত জেইক ওয়েদেরল্ড ওপেনিংয়ে অর্জন করে নিলেন আস্থা। চোট কাটিয়ে তৃতীয় টেস্টের স্কোয়াডে খাওয়াজা ফিরলেন বটে। তবে শেষ পর্যন্ত একাদশে জায়গা খুঁজে পেলেন না।
তার ক্যারিয়ার শেষ বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল তখনই। কিন্তু অ্যাডিলেইডে ওই টেস্ট শুরুর সকালে অসুস্থতার কারণে ছিটকে পড়েন স্টিভেন স্মিথ। শেষ মুহূর্তে একাদশে ঢুকে যান খাওয়াজা। নাটকীয়ভাবে সুযোগ পেয়ে চার নম্বরে নেমে উপহার দেন ৮২ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংস করেন ৪০।
এরপর বক্সিং ডে টেস্টে জশ ইংলিশকে বাদ দিয়ে খাওয়াজাকেই মিডল অর্ডারে খেলায় অস্ট্রেলিয়া। এবার অবশ্য ভালো করতে পারেননি তিনি।
কোচ ম্যাকডোনাল্ড নিশ্চিত করলেন, অবসর নিয়ে কোনো আলোচনা খাওয়াজার সঙ্গে তাদের হয়নি। সেই সময়টা এসেছে কি না, অস্ট্রেলিয়া কোচ নিশ্চিত নন সেটিও।
“আমরা খুবই পরিষ্কার যে কোনো আলোচনা (অবসর নিয়ে) আমাদের হয়নি। আলোচনা-জল্পনা যা হচ্ছে, সব বাইরের। দিন দুয়েকের ছুটিতে এখন সে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। ক্রিকেটাররা কে কেমন অবস্থানে আছে, এসব নিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিতই আলোচনা হয় আমাদের। ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরিই কথা বলি আমরা। সে (খাওয়াজা) সিডনিতেই ক্যারিয়ারের ইতি টানবে, আমার দিক থেকে এমন কোনো আভাস নেই।”
“এটা নিয়ে আমরা হয়তো আলোচনা করব। তবে দলে নির্বাচনের জন্য তার পারফরম্যান্স যথেষ্টই, সিডনিতে তাই সে থাকছে। কোনো গ্রেট ক্রিকেটার যখন অবসর নেয়, আমাদের চ্যালেঞ্জ হলো সেটাকে মূল্যায়ন করা। তবে কারও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিষ্কার হওয়ার সেই সময়টা যখন পর্যন্ত না আসে, তখনও পর্যন্ত কাজটা কঠিন।”
প্রায় ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ৮৭ টেস্ট খেলেছেন খাওয়াজা। ১৬ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ৬ হাজার ২০৬।
সিডনি টেস্ট শুরু আগামী রোববার।