১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পারলেন না সাকিব, এমিরেটসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভাইপার্স

দুটি ফাইনালে হারের পর অবশেষে আইএল টি-টোয়েন্টির শিরোপা জিতল ডেজার্ট ভাইপার্স।

পারলেন না সাকিব, এমিরেটসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভাইপার্স
জয়ের পর ডেজাট ভাইপার্সের ক্রিকেটারদের উল্লাস। ছবি: ডেজাট ভাইপার্স ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jan 2026, 02:02 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

ম্যাচের প্রথম ওভারে ১০ রান দেওয়ার পর আর বোলিং পেলেন না সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ত্রিশ ছাড়াতে পারলেও, এবার আর দলকে জেতাতে পারলেন না তিনি। ব্যাটিং ধসে লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারল না এমআই এমিরেটস। দারুণ জয়ে আইএল টি-টোয়েন্টির চতুর্থ আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ডেজার্ট ভাইপার্স।

ফাইনালে ভাইপার্স জিতেছে ৪৬ রানে। দুবাইয়ে রোববার ১৮২ রানের পুঁজি গড়ে এমিরেটসকে ১৩৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে স্যাম কারানের দল। 

২২ রানের মধ্যে শেষ ৬ উইকেট হারায় এমিরেটস। সাকিবের ৩ চারে ২৭ বলে ৩৬ রানের ইনিংস দলটির কারো সর্বোচ্চ।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দুটি ফাইনালে হারের পর অবশেষে শিরোপা জিততে পারল ভাইপার্স। চার আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো ভিন্ন চার দল। 

আর ২০১০ সালের পর এই প্রথম এমআই ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরুষ কিংবা নারীদের কোনো দল টি-টোয়েন্টি ফাইনালে হারল। দেড় দশক আগে আইপিএল ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে হেরেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলই শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতল। প্রাথমিক পর্বে ১০ ম্যাচের ৮টি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল ভাইপার্স। প্রথম কোয়ালিফায়ারে এমিরেটসকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর, এখানে আবার দলটিকে হারাল তারা।

৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫১ বলে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা ভাইপার্স অধিনায়ক কারান। টুর্নামেন্টের সেরাও এই ইংলিশ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ১২ ম্যাচে ৪৯.৬২ গড় ও ১৩৫.৪৯ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৭ রান করে আসরের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক তিনি। বল হাতে উইকেট নিয়েছেন ৭টি।

এবারই প্রথম আইএল টি-টোয়েন্টিতে খেললেন সাকিব। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আবু ধাবি নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে আঁটসাঁট বোলিংয়ের পর, ২৪ বলে ৩৮ রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়ে ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার। সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি আরেকটি ম্যাচে। 

সব মিলিয়ে আট ম্যাচের পাঁচটিতে ব্যাটিং পেয়ে ১২২.৩৪ স্ট্রাইক রেটে সাকিব করেছেন ১১৫ রান। সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৮। আর বল হাতে আট ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি ওভারপ্রতি ৬.১০ করে রান দিয়ে।

রান তাড়ায় এমিরেটসের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম দুই ওভারে একটি করে ছক্কা মারেন মুহাম্মাদ ওয়াসিম ও আন্দ্রে ফ্লেচার। তবে দুই ওপেনারের কেউ ইনিংস টেনে নিতে পারেননি। পাওয়ার প্লের মধ্যে এই দুজনের পাশাপাশি আউট হয়ে যান টম ব্যান্টনও। টানা দুই ফিফটির পর এবার দুই অঙ্কে যেতে পারেননি এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান। 

প্রথম ২ ওভারে ১৯ রান তুলে ফেলা এমিরেটস পরের ৪ ওভারে ২৭ রান করতে হারায় ৩ উইকেট। সাঞ্জায় কৃষ্ণামূর্তির দ্রুত বিদায়ে অষ্টম ওভারে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৫৪। 

তিন নম্বরে নামা সাকিব এরপর কাইরন পোলার্ডকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন। দুজন শুরুতে দেখেশুনে খেলছিলেন। পরে ডেভিড পেইনের ওভারে একটি করে চার মারেন দুজনই।

শেষ ৫ ওভারে তাদের প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান। ষোড়শ ওভারে প্রথম বলে অফ স্পিনার উসমান তারিককে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে লং-অফে ধরা পড়েন সাকিব। পরের ওভারে বিদায় নেন পোলার্ডও (২৮ বলে ২৮)।

বাকিরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। পেইন একই ওভারে চার বলের মধ্যে শিকার করেন ৩ উইকেট।

এর আগে টস জিতে বোলিং নিয়েছিলেন এমিরেটস অধিনায়ক পোলার্ড। প্রথম ওভারে সাকিবের দ্বিতীয় বলে বেরিয়ে এসে ছক্কা মারেন ফাখার জামান। বাকি পাঁচ বলে ৪ রানের বেশি দেননি সাকিব। 

দুই ওপেনার ফাখার ও জেসন রয় ইনিংস টেনে নিতে না পারলেও, তিন নম্বরে ৩২ বলে ৪১ রান করেন ম্যাক্স হোল্ডেন। আর চার নম্বরে নেমে দারুণ ইনিংসে দলকে ১৮২ পর্যন্ত নিয়ে যান কারান।

নিয়মিত অধিনায়ক লকি ফার্গুসন টুর্নামেন্টের মাঝপথে চোট পেয়ে ছিটকে গেলে ভাইপার্সের নেতৃত্ব পান কারান। দারুণভাবে নেতৃত্ব দিয়ে ও পারফর্ম করে দলকে ট্রফি এনে দিলেন তিনিই।  

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ডেজার্ট ভাইপার্স: ২০ ওভারে ১৮২/৪ (ফাখার ২০, রয় ১১, হোল্ডেন ৪১, কারান ৭৪*, লরেন্স ২৩; সাকিব ১-০-১০-০, গাজানফার ৪-০-২৭-০, রোহিদ ২-০-২৩-০, ফারুকি ৪-০-৩৩-২, তাজিন্দার ৩-০-২৭-০, শেফার্ড ৩-০-৩৫-০, পোলার্ড ১-০-১১-০, গুল ২-০-১৪-১) 

এমআই এমিরেটস: ১৮.৩ ওভারে ১৩৬ (ওয়াসিম ২৬, ফ্লেচার ১০, ব্যান্টন ৭, সাকিব ৩৬, কৃষ্ণামূর্তি ২, পোলার্ড ২৮, তাজিন্দার ১২, শেফার্ড ১, গাজানফার ০, গুল ৫*, রোহিদ ৩; পেইন ৪-০-৪৩-৩, তানভির ৩.৩-০-২২-২, নাসিম ৪-০-১৮-৩, কারান ২-০-২৪-০, লরেন্স ১-০-৬-০, উসমান ৪-০-২০-২)

ফল: ভাইপার্স ৪৬ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন

ম্যান অব দা ম্যাচ: স্যাম কারান

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: স্যাম কারান