Published : 12 Dec 2025, 12:06 PM
ব্যাটের হাত আকসার প্যাটেলের খারাপ নয় কখনোই। কার্যকর কিছু ইনিংস নানা সময়েই খেলেছেন। গৌতাম গাম্ভির কোচ হওয়ার পর তাকে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাই বলে তিন নম্বর পজিশনে? সেটিও যখন লক্ষ্য বিশাল এবং দল প্রথম ওভারেই হারিয়েছে উইকেট! ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে জেগেছে বিস্ময়, উঠেছে প্রশ্ন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের চমকপ্রদ ঘটনা এটি। আগে ব্যাট করে ২০১৩ রানের পাহাড় গড়ে প্রোটিয়ারা। রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই বিদায় দেন শুবমান গিল। ব্যাট হাত নামেন তখন আকসার।
এমনিতে ভারতের হয়ে তিনে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যাট করেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ ও তিলাক ভার্মা। এই পজিশনে দুজনের রেকর্ডই দুর্দান্ত। ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন মেলাতে একেক সময় দেখা দেখা দুজনের কাউকে। কিন্তু এবার ছিল ব্যতিক্রম।
মূলত বাঁহাতি স্পিনার হলেও আকসার ব্যাটিং পারতেন বরাবরই। একসময় লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করলেও পরে ওপরের দিকে উঠে এসেছেন ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েই। গৌতাম গাম্ভির কোচ হওয়ার পর ওপরের দিকে তাকে নিয়মিতই খেলানো হচ্ছে। ওয়ানডেতে তাকে পাঁচ নম্বরে খেলানো নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। কিন্তু তার ব্যাটিংয়ে গাম্ভিরের আস্থা প্রবল, তা ফুটে উঠেছে নানা সময়েই।
তার পরও এবার তাকে তিনে তুলে আনায় অনেক প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, লক্ষ্য যখন ছিল অনেক কঠিন। ১৭১ ম্যাচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথম তিন নম্বরে দেখা গেল আকসারকে।
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলো অধিনায়ক সুরিয়াকুমারকে।
“গত ম্যাচেো আমরা ভেবেছিলাম… বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে আমরা দেখেছি আকসারকে ভালো ব্যাট করতে। আজকেও আমরা একইভাবে ব্যাটিংয়ে ওর ওপর ভরসা রাখতে চেয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটা কাজে লাগেনি, যদিও সে ভালো ব্যাট করেছে। আমরা দেখব, পরের ম্যাচে আমাদের ভাবনায় কী আসে…।”
‘কাজে লাগেনি’ বলেও ভারতীয় অধিনায়ক বলছেন ‘ভালো ব্যাট করেছে’, বিভ্রান্তি ফুটে উঠেছে সেখানেও। আকসারের ব্যাটিংও তেমনই ছিল। ওভারপ্রতি রান প্রয়োজন যখন ১১-১২ করে, তিনে নেমে তিনি খেলেছেন ২১ বলে ২১ রানের ইনিংস। আগের ম্যাচেও পাঁচে সুযোগ পেয়ে ২৩ রান করেছিলেন ২১ বল খেলে।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনেও প্রশ্ন হলো আকসারের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে। ভারতের সহকারী কোচ সাবেক ডাচ অলরাউন্ডার রায়ান টেন ডেসকাটে বললেন, বিশ্বকাপে তাকিয়ে নানা কিছু বাজিয়ে দেখছেন তারা।
“বিশ্বকাপের আগে আর ৮-৯টি ম্যাচ আছে আমাদের। কম্বিনেশনের দিক থেকে নানা কিছু পরখ করে দেখছি আমরা। খোলামেলা করে বলতে, গত কয়েক মাসে আমরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশিবার ৩৫ রানে ৩ উইকেট বা এমন অবস্থানে পড়ে গেছি। এজন্যই আমরা চেষ্টা করে দেখছি, কীভাবে ব্যাটিং অর্ডার লম্বা করা যায়।”
“ওপেনারদের সঙ্গে অন্য ব্যাটারদের সংযোগের ব্যাপার… আমরা চাই, পরিস্থিতি যখন একটু নাজুক, তখন ওরা ক্রিজে গিয়ে ধুন্ধুমার শট খেলতে থাকুক।”
আকসারকে তিনে পাঠিয়ে সুরিয়াকুমার ও তিলাকের মতো পরীক্ষিতদের নিচে নামিয়ে সেটা কীভাবে সম্ভব, প্রশ্ন রয়ে যায় সেখানেও।
তিলাক পাঁচে নেমে ৩৪ বলে ৬২ রানের ইনিংস খেলেন বটে। তবে ভারত সেভাবে লড়াই করতেই পারেনি ২১৪ রান তাড়ায়। ৫১ রানে জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা।