Published : 13 May 2026, 09:41 PM
ওভারের শেষ দুই বলে প্রতিপক্ষের দুজনকে বোল্ড করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেন আলিস আল ইসলাম। নিজের পরের ওভারের প্রথম বলেই আরেকজনের স্টাম্প ভেঙে সেটিকে পূর্ণতা দিলেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের এই স্পিনার। তার এমন কীর্তি গড়ার দিনে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি। আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পেসার এবার ধরলেন ছয় শিকার।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বুধবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন আরও দুইজন- ব্রাদার্স ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়া শাকিল ও আবাহনী লিমিটেডের মাহফুজুর রাব্বি।
ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ স্রেফ ২১ রান দিয়ে ছয় উইকেট নেন আলিস। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এই প্রথম পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিতে পারলেন তিনি।
এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করা বাংলাদেশের পঞ্চদশ বোলার আলিস। দুইবার করে এই স্বাদ পেয়েছেন রুবেল হোসেন ও মোহাম্মদ শরিফ। আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন বলে তিন উইকেট নেওয়া একদশ বোলার আলিস। শরিফের হ্যাটট্রিক দুটিও এই প্রতিযোগিতায়।
আলিসের স্পিনে ১৯৮ রানের বিশাল জয় পায় প্রাইম ব্যাংক। ৩০৩ রানের পুঁজি গড়ে গাজী গ্রুপকে স্রেফ ১০৫ রানে গুটিয়ে দেয় তারা।
প্রাইম ব্যাংকের হয়ে তিনটি ছক্কা ও দুটি চারে ৮৮ রান করেন শাহাদাত হোসেন। তার উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী আজিজুল হাকিম তিনটি করে ছক্কা-চারে করেন ৭৮ রান। তাদের যুগলবন্দিতে আসে ১৪৬ রান।
অপরাজিত ৫১ রান করতে শামীম হোসেন তিনটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। শেষ দিকে ঝড় তুলে পাঁচটি ছক্কা ও দুটি চারে ১৭ বলে ৪২ রান করেন আবু হায়দার রনি।
লক্ষ্য তাড়ায় আলিসের স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি গাজী গ্রুপের কেউ। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন সাব্বির হোসেন।
আরেক ম্যাচে, বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে গুঁড়িয়ে দেন মৃত্যুঞ্জয়। স্রেফ ২২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচেই লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে প্রথমবার পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন এই পেসার, ৪১ রানে।
দুটি করে উইকেট নেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার সাইফ উদ্দিন ও লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তাদের ছোবলে স্রেফ ৮০ রানে গুটিয়ে যায় নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন বসুন্ধরা।
এনামুল হক ও মোহাম্মদ নাঈম শেখের অবিচ্ছিন্ন শুরুর জুটিতে ৮.১ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে মোহামেডান। তিনটি ছক্কা ও ছয়টি চারে ২৮ বলে ৫০ রান করেন এনামুল। পাঁচটি চারে ৩১ রান করেন নাঈম।
ব্রাদার্স ইউনিয়নের জয়ের নায়ক গোলাম কিবরিয়া। ৩১ রান খরচায় পাঁচ উইকেট নেন ডানহাতি পেসার। এছাড়া শফিকুল ইসলাম ও সোহাগ গাজী ধরেন দুটি করে শিকার। তাতে ২০৪ রানে গুটিয়ে যায় সিটি ক্লাব। দলটির হয়ে কেবল একজন ফিফটি করতে পারেন-এনামুল হক (তিন ছক্কা ও দুটি চারে ৫১)।
রান তাড়ায় ৩৪.১ ওভারে ব্রাদার্স ৪ উইকেটে ১৫০ রান করার পর বৃষ্টি নামে। পরে ডাকওয়ার্থ লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ২৬ রানে জিতে যায় তারা।
দলটির হয়ে আট চারে ৫৮ রান করেন জাহিদুজ্জামান। দুটি ছক্কা ও চারটি চারে ৫৭ রান আসে আদিল বিন সাদ্দিকের ব্যাট থেকে।
রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে আবাহনীর ৮ উইকেটের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা মাহফুজুরের। ২৫ রানে পাঁচ উইকেট নেন এই স্পিনার। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এনিয়ে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি।
দুটি করে শিকার ধরেন রোহান উদ দৌলা ও রকিবুল ইসলাম। তাদের নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে ১৪৭ রানে গুটিয়ে দেয় আবাহনী। পরে সৌম্য সরকারের ফিফটি ও জাকের আলির ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে যায় শিরোপাধারীরা।
দুটি ছক্কা ও সাতটি চারে ৬৫ রান করেন সৌম্য। ৪৪ রান করতে তিনটি ছক্কা ও একটি চার মারেন জাকের। ওপেনার জিশান আলমের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।
এদিন ছয় ম্যাচে সেঞ্চুরি এসেছে কেবল একটি। লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে তিন ছক্কা ও ১০ চারে ১২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন মাহফিজুল ইসলাম। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ২৯৩ রানের পুঁজি গড়ে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
রান তাড়ায় লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ৩৪.১ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৫ রান করার পর বৃষ্টি নামে। পরে ডাকওয়ার্থ, লুইস ও স্টার্ন পদ্ধতিতে ৭৭ রানে জিতে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
দিনের আরেক ম্যাচে, গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ৬ উইকেট হারিয়েছে ঢাকা লিওপার্ডস। প্রতিপক্ষকে ১৭৮ রানে গুটিয়ে ৯২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা।
গুলশানের হয়ে ফিফটি করতে পারেননি কেউ। সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন আলি ইমন। ঢাকা লিওপার্ডসের বোলিং করা সবাই পান উইকেটে স্বাদ। সর্বোচ্চ দুটি করে প্রাপ্তি আরাফাত সানি, মইন খান ও হাসান মুরাদের।
রান তাড়ায় সাত ছক্কা ও দুই চারে অপরাজিত ৮৮ রান করেন লিওপার্ডসের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৈকত আলি।