Published : 04 Feb 2026, 08:36 PM
ক্রিকেটার জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ স্বাধীন কমিটি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি। নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুটি অভিযোগ উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়নি।
“কমিটি জাহানারা আলমের করা চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পরীক্ষা করে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগ উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়নি। বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে, কমিটি বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের অনুপযুক্ত আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে, যার সঙ্গে বিসিবির চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হয়।”
“কমিটি পেশাদার মানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আচরণ লক্ষ্য করেছে এবং পর্যবেক্ষণ করেছে যে, সুপ্রিম কোর্টের প্রযোজ্য নির্দেশিকা অনুসারে কিছু পদক্ষেপ অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।”
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
“স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, বোর্ড হয়রানি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতির আলোকে তদন্ত ফলাফল নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের আইনি বিভাগকে সম্পৃক্ত করেছে। বোর্ড তার বিধিবিধান ও প্রযোজ্য আইন অনুসারে যথাযথ পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
একই সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের রায় অনুসারে অভিযোগ কমিটি গঠনের মাধ্যমে বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও বিসিবির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলাকে।
তিন দফায় সময় বাড়ানোর পরও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গত সোমবার বহুল আলোচিত এই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে বিসিবিতে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন তুলে দেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে।
গত নভেম্বরে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে জাহানারা অভিযোগ করেন, নিউ জিল্যান্ডে ২০২২ বিশ্বকাপ চলার সময় তখনকার নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়াও মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও সেসব প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণ করার অভিযোগও তোলেন এই পেসার।
একইরকম অভিযোগ করেন তিনি নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, একসময় যিনি ছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী। টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন নারী ক্রিকেটে দেশের সফলতম পেসার।
জাহানারার অভিযোগের পর মুখ খুলতে শুরু করেন আরও বেশ কজন ক্রিকেটার। তোলপাড় পড়ে যাওয়ার পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিমকে। অন্য দুই সদস্য বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
এই কমিটির গঠন নিয়েও নানা সমালোচনার পর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয় দুজন। যোগ করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খানকে।
প্রথমে বিসিবি জানিয়েছিল, ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাহানারাকে বলা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে। অস্ট্রেলিয়ায় থাকা এই ক্রিকেটার ১৫ দিন সময় চেয়ে অনুরোধ জানান। তখন তাকে বলা হয় ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অভিযোগ জানাতে।
জাহানারা লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর আরেক দফায় বিসিবি জানায়, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তদন্ত কমিটিকে। তখন বলা হয়েছিল, “ন্যায্য ও উপযুক্ত তদন্তের স্বার্থে আরও কজনের সঙ্গে কথা বলা ও তথ্য পরখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখছে কমিটি।”