Published : 19 Nov 2025, 01:45 AM
‘ওয়ার্ল্ড কোয়ালিটি ডে’ উপলক্ষে এক কর্মশালায় পণ্যের ‘গুণগতমান ধরে রাখার’ প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড।
১৩ নভেম্বর ‘ওয়ার্ল্ড কোয়ালিটি ডে’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী এ কোম্পানি, যেখানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ ও কমিউনিকেশন ডিরেক্টর শামীমা আক্তার পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখার প্রতিশ্রুতি পুর্নব্যক্ত করেন।
কোম্পানির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহাখালীতে কোম্পানির কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় ইউনিলিভারের মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া, উদ্ভাবন এবং ভোক্তা নিরাপত্তায় প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরা হয়।
ছয় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা করা ইউনিলিভার প্রতিটি পদক্ষেপে গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি অটুট রেখেছে দাবি করে শামীমা আক্তার বলেন, “ইউনিলিভার বাংলাদেশ যখন যাত্রা শুরু করে সেই সময় দেশের শিল্প–অবকাঠামো সীমিত ছিল, ভোক্তা–বাজারও খুব বেশি সংগঠিত ছিল না।
“তবুও শুরুর দিন থেকেই কোম্পানির প্রতিশ্রুতি ছিল, বাংলাদেশের মানুষকে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ, কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য পণ্য সরবরাহ করবে। লাক্স, লাইফবয় ও সানলাইট—প্রথম দিককার এই ব্র্যান্ডগুলো দেশের ভোক্তাদের সামনে পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত যত্নে আধুনিকতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।”
তিনি বলেন, “উৎপাদনের প্রথম দিন থেকেই কাঁচামালের উৎস, নিষ্কণ্টক প্রক্রিয়া এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ–মানদণ্ডে কঠোর নজরদারিই তৈরি করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশের গুণগত মান নিশ্চিত করার দৃঢ় ভিত্তি।”
১৯৭৩ সালে লিভার ব্রাদার্স বাংলাদেশ লিমিডেট নামে কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন এবং পরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে উৎপাদন বিস্তার দেশের ভোগ্যপণ্য খাতে একটি ‘সুদৃঢ় ভিত্তি’ গড়ে তুলেছে বলে মন্তব্য করেন শামীমা।
তিনি বলেন, “ইউনিলিভারের কাছে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা কেবল কোনো নির্দিষ্ট বিভাগের কাজ নয়; বরং এটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে অনুসৃত একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি।
“কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং বাজার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে একই সতর্কতা ও একই মানদণ্ড বজায় রাখা হয়।”
কর্মশালায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদিত পণ্যের গুণমান নিশ্চিত রাখা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরেন হেড অব কোয়ালিটি তাসমিম শায়লা।
আর কাঁচামাল সংগ্রহ ও বিপণন প্রক্রিয়া তুলে ধরেন কোম্পানির হেড অব রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলমেন্ট নাবিল সিদ্দিকী।

নাবিল সিদ্দিকী বলেন, “ইউনিলিভার বাংলাদেশ সরবরাহকারীদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলে দীর্ঘমেয়াদী মান–প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে। আমরা নিয়মিত অডিট, ‘কোয়ালিটি ওয়ান’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়মভিত্তিক গুণগত অসঙ্গতি ব্যবস্থাপনা পরিচালনা, প্যাকেজিং পার্টনারদের সঙ্গে যৌথ সমস্যা সমাধান এবং সরবরাহকারীদের নিজস্ব মান–ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়তা করি। ফলে আমাদের কাঁচামালের উৎস নির্ভরযোগ্য ও মান–নিয়ন্ত্রিত।”
তাসমিম শায়লা বলেন, “ইউনিলিভারের কারখানাগুলোতে প্রতিটি পণ্য তৈরি হয় প্রোডাক্ট কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ডস এবং কনজিউমার রিলেভান্ট কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ডস অনুসরণ করে। প্রতিটি উৎপাদন লাইনে প্রতি ঘণ্টায় ৬০টি অন-প্যাক এবং ৮টি ইন-প্যাক পরীক্ষা নিশ্চিত করে পণ্যের দৃশ্যমান ও কার্যগত মান।
“রিয়েল–টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে ব্যাচ কোড যাচাই, সিলের দৃঢ়তা, ওজন–নিয়ন্ত্রণ বা ডেলামিনেশনের মতো সূক্ষ্ম বিচ্যুতিগুলো দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধন করা হয়। ডেলিভার্ড সুপিরিয়রিটি ইনডেক্সের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় পণ্যটি কারখানা থেকে শুরু করে শেলফ ও ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তার প্রত্যাশিত মান বজায় রেখেছে কি না। এই সমন্বিত যাচাই–প্রক্রিয়াই প্রতিটি পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করে।”
পণ্য কারখানা ছাড়ার পরেই কোয়ালিটি–পরীক্ষা শেষ হয়ে যায় না মন্তব্য করে ইউনিলিভার বাংলাদেশের হেড অব কোয়ালিটি বলেন, “দেশের ডিপোগুলোতে প্রতিদিন ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের পণ্য নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাতে সংরক্ষণ বা পরিবহনের ফলে কোনো মান–বিচ্যুতি না ঘটে।

“প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো ক্রমবিন্যাস ছাড়া ‘ফিনিশড বাল্ক কন্টেইনার’ খুলে দেখা হয়, মূল্যায়ন করা হয় পরিবেশগত উপাদানের প্রভাব এবং প্যাকেজিংয়ের স্থায়িত্ব। ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি পণ্য যেন মান বজায় রাতে তা নিশ্চিত করতেই এসব পর্যবেক্ষণ।”
দোকানে থাকা পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করেও তা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে মান ঠিক আছে কি না তা ইউনিলিভার বাংলাদেশ যাচাই করে বলে দাবি করেন তিনি।
তাসমিম শায়লা বলেন, ভোক্তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে পণ্য–উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ‘জোর দেয়’।
কর্মশালার শেষাংশে কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ ও কমিউনিকেশন ডিরেক্টর শামীমা আক্তার বলেন, “ইউনিলিভার বাংলাদেশের কাছে কোয়ালিটি কোনো নির্দেশিকা বা প্রক্রিয়ার নাম নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়, মূল্যবোধ এবং ভোক্তার প্রতি এক অবিচল অঙ্গীকার।
“ছয় দশকের যাত্রায় প্রতিটি পণ্য, প্রতিটি প্রক্রিয়া এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তেই এই প্রতিশ্রুতি অটুট থেকেছে। এভাবেই বাংলাদেশের মানুষকে বিশ্বমানের নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং উৎকৃষ্ট পণ্য ও অভিজ্ঞতা দিচ্ছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।”
পণ্যের গুণমত মানকে কেন্দ্র করেই ইউনিলিভার বাংলাদেশের আগামী দিনে ‘শক্ত ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে’ বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।