Published : 14 Apr 2026, 05:35 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সরকারের কাছে দুটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জমা পড়ার তথ্য দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১০ থেকে ১৫ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় কোনো সমস্যা থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুলতলায় বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন হেলাল উদ্দিন, যিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই দেশ কারো একার নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে ধারণা দিয়েছিলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে একটি অভিন্ন পরিচয়ের আওতায় আনা।
“আমাদের দেশে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছে; পাহাড়ে ও সমতলে। পার্বত্য চট্টগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, সেখানে ১৩টি নৃগোষ্ঠীর মানুষসহ বাঙালিরা মিলেই একটি সমৃদ্ধ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সম্মিলন গড়ে তুলেছে।”
মীর হেলাল মনে করেন, “এই বৈচিত্র্য ধারণ করার জন্যই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা গুরুত্বপূর্ণ। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩১ দফা ও ইশতেহারে ‘রংধনু জাতি’ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। আজ চট্টগ্রামের প্রতিটি প্রান্তে আমি সেই রংধনু জাতির প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।”
শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে ‘যৌক্তিক’ মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংসদে আমার পাশের আসনে বসেন রেল ও সড়ক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সাহেব। আমি ইতোমধ্যে তার সঙ্গে শাটল ট্রেন সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেছি এবং তিনি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “স্থানীয় জনগণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে সংবেদনশীল সম্পর্ক, অতীতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এর মূল কারণ ছিল অনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের সঙ্গে সংযোগহীনতা। আমি যেহেতু এলাকার সন্তান, আমি বিশ্বাস করি, স্থানীয় জনগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্নেহের চোখে দেখে। আমি উদ্যোগ নিয়ে উভয়ের মধ্যে সুন্দর সমঝোতা তৈরি করব।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, "২০১৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ডিপিপি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছি।
“বিশেষ করে আবাসন সংকট একটি বড় সমস্যা। আমাদের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসনের ব্যবস্থা অত্যন্ত সীমিত। আমরা আশা করি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের আন্তরিক উদ্যোগ ও দৃঢ় নেতৃত্বে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।"
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, উপ উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আল আমীন, চাকসুর ভিপি মো. ইব্রাহীম, জিএস সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস আইযুবুর রহমান।
'এসো প্রাণের উৎসবে, জাগো নব আনন্দে' মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের পহেলা বৈশাখ আয়োজন করেছে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।