ঢাবির ৫৩তম সমাবর্তনে অংশ নেবেন ৩০ হাজার গ্র্যাজুয়েট

সমাবর্তনস্থলে প্রবেশের জন্য মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Nov 2022, 11:42 AM
Updated : 17 Nov 2022, 11:42 AM

মহামারীর কারণে প্রায় তিন বছরের বিরতির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছেন মোট ৩০ হাজার ৩৪৮ গ্র্যাজুয়েট। 

তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও তার উপাদানকল্প কলেজ-ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েট ২২ হাজার ২৮৭ জন, আর অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের গ্র্যাজুয়েট ৭ হাজার ৭৯৬ জন। 

সমাবর্তন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। 

আগামী শনিবার এ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। নোবেলজয়ী ফরাসি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. জঁ তিরোল সমাবর্তন বক্তা হিসেবে থাকবেন।

২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ২০ হাজার ৭৯৬ জন ডিগ্রিধারী। 

শনিবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শোভাযাত্রা শেষে ১২টায় এবারের সমাবর্তনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ও উপাদানকল্প কলেজ/ইনস্টিটিউটের গ্র্যাজুয়েটরা থাকবেন। আর অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের গ্র্যাজুয়েটরা ঢাকা কলেজ ও ইডেন কলেজ ভেন্যু থেকে সমাবর্তনে অংশ নেবেন। 

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, সমাবর্তনে ১৩১ জন কৃতি শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীকে ১৫৩টি স্বর্ণপদক; ৯৭ জনকে পিএইচডি, ২ জনকে ডিবিএ এবং ৩৫ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫২ জনকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। এ বছর অধ্যাপক ড. জঁ তিরোলকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ ডিগ্রি দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কনস্টিট্যুয়েন্ট কলেজের অধ্যক্ষ বা ইনস্টিটিউটের পরিচালকরা সকাল ১১টা ২০ মিনিটে সমাবর্তন শোভাযাত্রার সূচনাস্থল কার্জন হল প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকবেন। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা খেলার মাঠের সুইমিংপুল সংলগ্ন গেইট দিয়ে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করবেন। তাদের জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় গেইট খোলা হবে এবং তারা সকাল ১১টার মধ্যে অবশ্যই সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করবেন। 

আর আমন্ত্রিত অতিথিরা জিমনেসিয়াম সংলগ্ন গেইট দিয়ে সমাবর্তনস্থলে প্রবেশ করবেন। তাদের জন্য সকাল ১০টায় গেইট খোলা হবে এবং তারা সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে অবশ্যই সমাবর্তনস্থলে আসন গ্রহণ করবেন । 

অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা এবং নিবন্ধন করা গ্র্যাজুয়েটরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ ভেন্যু থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং তারা সমাবর্তনস্থলে সকাল ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যে আসন গ্রহণ করবেন।

·        সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রতিষ্ঠানিক আইডি/পাসপোর্ট সাথে আনতে হবে। আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তরযোগ্য নয়। 

·        সমাবর্তনস্থলে মোবাইল ফোন, হাতব্যাগ, ব্রিফকেস, ক্যামেরা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ছাতা ও পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। সমাবর্তনস্থলে প্রবেশের জন্য মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। 

·        সমাবর্তনের দিন ভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের গাড়ির জন্য কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান ভবন (কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সায়েন্স এনেক্স ভবন) মাঠে পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া অন্যান্য গাড়ি এসএম হল মাঠ, জহুরুল হক হল মাঠ, মুহসীন হল মাঠ ও ফুলার রোডে পার্কিং করা যাবে। 

·        সমাবর্তনের দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টিএসসি ক্রসিং থেকে দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট থেকে দোয়েল চত্বর এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তায় গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 

·        সমাবর্তনের দিন নিরাপত্তার স্বার্থে শাহবাগ থেকে টিএসসি-দোয়েল চত্বর হয়ে হাইকোর্ট মোড় পর্যন্ত রাস্তায় নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখারও অনুরোধ করা হয়েছে। 

উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশেপাশে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় গ্র্যাজুয়েট এবং অতিথিদের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটবে বলে আমরা দুঃখিত। 

“তাই সমাবর্তন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‍্যাব, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ফায়ার সার্ভিস, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সদয় সহযোগিতা কামনা করছি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক