Published : 09 Jun 2026, 06:51 PM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হল ‘চীন-বাংলাদেশ ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং’ বা ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টার’। বাংলাদেশে এ ধরনের গবেষণা কেন্দ্র এটাই প্রথম।
মঙ্গলবার স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রের গ্রাউন্ড স্টেশনের উদ্বোধন করেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ১১টি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এসব স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত তথ্য গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে জাতীয় ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করা হবে।
এটি একটি বেসামরিক গবেষণাভিত্তিক ডাউনলিংক গ্রাউন্ড স্টেশন। এখানে কোনো আপলিংক সুবিধা নেই। কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত ফ্রিকোয়েন্সিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমোদিত।
বঙ্গোপসাগর নিয়ে উচ্চমানের গবেষণা করতে নিজস্ব রিয়েল-টাইম ডেটা ও নমুনা সংগ্রহ করতে, শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সমুদ্র থেকে সরাসরি ডেটা বা নমুনা সংগ্রহের করতে এটি ব্যবহার করে হবে। এর ফলে ডেটা পেতে যেমন দেরি হবে না, তেমনি রেজ্যুলেশন বেশি হবে, অনেক তথ্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ও লেবেলের ডেটা পাওয়া যাবে।
এটি একটি এক্স (ফ্রিকোয়েন্সি পরিসর: প্রায় ৮-১২ গিগাহার্টস) অ্যান্ড এল (ফ্রিকোয়েন্সি পরিসর: প্রায় ১-২ গিগাহার্টস) ব্যান্ড স্যাটেলাইট ডেটা রিসেপশন সিস্টেম, যা বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে উড়ন্ত বিভিন্ন ওশান ও আবহাওয়া (আর্থ অজারভেশন) স্যাটেলাইট থেকে ডেটা সংগ্রহ করতে সক্ষম।
প্রকল্পটির সঙ্গে অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কোনো আর্থিক লেনদেনভিত্তিক চুক্তি হয়নি। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপনা নির্মাণ, যন্ত্রাংশ স্থানান্তর এবং স্যাটেলাইট ডেটা সংগ্রহ ও নিবন্ধন ফিসহ অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা হতে পারে।

অন্যদিকে জমি, সীমানা প্রাচীর, ইন্টারনেট সুবিধা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি টাকার বেশি। তবে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরাসরি নগদ ব্যয় নয়; বরং উভয় পক্ষের সম্ভাব্য অবদান ও ব্যয়ের একটি ধারণামূলক হিসাব, যা কোনো চুক্তিবদ্ধ বাজেট নয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিন বলেন, "আমাদের নাবিক, পণ্যবাহী জাহাজ, ট্রলারের জন্য এ প্রজেক্টের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা সম্ভাব্য আবহাওয়া, মাছের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে। আমাদের দেশে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সরকার যখন যাত্রা শুরু করেছিলাম তখন, আমাদের ৩০ লাখ কোটি টাকা লোনের বোঝাও ছিল।
“এ প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকলেও, যে উদ্দেশ্যের জন্য এটি স্থাপন করা আছে, আমরা সে উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। প্রয়োজনে আমরা নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, “আজ এক ঐতিহাসিক দিন। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয় বাংলাদেশের যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষার্থীরা গবেষণার করতে চায়, এটি তাদের অনেক সাহায্য করবে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের যদি দক্ষ করতে হয়, এটি অন্যতম একটি প্রকল্প।”
অনুষ্ঠান আরও উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসি সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, চবির উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশে চীন দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর লি শেওপেং, সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ফু বিন।
পুরনো খবর
চবিতে দেশের প্রথম স্যাটেলাইটভিত্তিক সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্র, উদ্বোধন মঙ্গলবার