Published : 03 Jul 2026, 11:40 PM
নতুন অর্থবছরে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতের বরাদ্দ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে রাখা হয়েছে।
সেই হিসাবে, এবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা আলাদা বরাদ্দ পাচ্ছে না।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের গবেষণা পরিকল্পনা, উপ-খাতভিত্তিক অর্থের চাহিদা ও বাজেট প্রাক্কলন ইউজিসিতে পাঠাতে হবে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গবেষণা খাতে বরাদ্দের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে ইউজিসি। এর আগে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রেজিস্ট্রারদের জানানো হয়েছে।
কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "২০২৬-২৭ অর্থবছরে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে ইউজিসি ২২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। কাজেই গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।
"একই সঙ্গে গবেষণা খাতে দ্বৈততা পরিহারের লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন পদ্ধতি আরও সহজ, স্বচ্ছ ও গবেষক-বান্ধব করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বকীয়তা, গবেষণার অগ্রাধিকার ও বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র ক্ষুণ্ণ হবে না।"
এতে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে চাহিদাপত্র পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থছাড়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করবে ইউজিসি।
গবেষণায় বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ গবেষকদের সঙ্গে উদীয়মান গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ইকোসিস্টেম তৈরিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেছে কমিশন। গবেষণা প্রকল্প প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের প্রয়োজনীয়তা ও সরকারের অগ্রাধিকারসমূহকে বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে গবেষণার বরাদ্দের টাকা মাসিক ভাতাবাবদ শিক্ষকদের মাঝে বিলানোর অভিযোগ উঠেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।
২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষকদের মাসিকভাতা বাবদ বিলানো গবেষণার টাকা ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে।
সে অনুসারে ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়কে টাকা ফেরত দেওয়ার চিঠি দেয় ইউজিসি। এ ছয়টির মধ্যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা শিক্ষকদের বিলিয়েছে।
এমন বাস্তবতায় এ অর্থবছর থেকে গবেষণার বরাদ্দের টাকা বিতরণের দায়িত্ব নিজেদের হাতেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
বৃহস্পতিবার কমিশন সচিবালয় থেকে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ইউজিসি।
কমিশনের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ইমরান হোসেন ওই চিঠি পাঠানোর বিষয়টি শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৪ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ে ত্রিপক্ষীয় সভায় গবেষণা খাতের অর্থ ইউজিসির অনুকূলে বরাদ্দ করে তা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কমিশন বলেছে, এ খাতে অর্থায়নের একটি সমন্বিত, কার্যকর ও টেকসই কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।