Published : 24 Jun 2025, 03:32 PM
নাম বদলের ধারাবাহিকতায় পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ হলের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল’।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০১ তম সিন্ডিকেট সভার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রী হল ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি বিভাগের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। 'ভাস্কর্য' বিভাগের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে 'ত্রিমাত্রিক শিল্প ও নকশা'; 'ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন' বিভাগের নতুন নাম হয়েছে ‘আইন ও ভূমি প্রশাসন’।
ছাত্রী হলের নতুন নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সই করা অফিস আদেশে সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত ওই আদেশে জানানো হয়, সিন্ডিকেটের ১২তম সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মাত্র ছাত্রী হলটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে হলটির নাম ছিল 'বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল' নামেই। তবে গতবছরের ১৩মে উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকা হালিমের সভাপতিত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৯৫তম সভায় হলটির নামের শুরুতে বেগম বাদ দিয়ে 'বঙ্গমাতা শেখ' যুক্ত করে নামকরণ করা হয় 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল'।

নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন উপমহাদেশের অন্যতম নারী সমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ, যিনি নারীর শিক্ষা বিস্তারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
দুইটি বিভাগের নাম পরিবর্তন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার অধ্যাপক শেখ গিয়াস উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে উঠলে বিভাগ দুটির নাম পরিবর্তনের অনুমোদন গৃহীত হয়েছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ৭৪তম সভা এবং সিন্ডিকেটের ১০১তম সভায় 'ভাস্কর্য' বিভাগের নতুন নামের সুপারিশ অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. শেখ গিয়াস উদ্দিনের সই করা অফিস স্মারকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিভাগের নাম বদলের এই তথ্য জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সভাপতি ইমাম হোসেন সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ইউজিসির অনুমোদন এবং নতুন আঙ্গিকে সিলেবাস তৈরির পর পাঠদান কার্যক্রম শুরু হবে।“
কেন নাম পরিবর্তন করা হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সময়ের চাহিদা বিবেচনায় বিভাগের নতুন নামকরণ করা হয়েছে।"
এই শিক্ষকের ভাষ্য, "আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তিগত জ্ঞান বাড়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের আরো যোগ্য করে তুলতে পারে, সেজন্যই নতুন নামকরণ করা এবং সেভাবেই সিলেবাস সাজানো হবে।"
ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের নাম পরিবর্তনের অফিস আদেশে বলা হয়, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত-১৮ অনুযায়ী, বিভাগের শিক্ষার্থীদের আবেদন, স্মারকলিপি, বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটি ও আইন অনুষদের নির্বাহী কমিটির সুপারিশ বিবেচনায় এ পরিবর্তন আনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নতুন নাম বিভাগের শিক্ষার কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।