২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে: মন্ত্রণালয়

কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ভর্তিচ্ছুদের দুর্ভোগ এড়াতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Nov 2024, 04:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:00 AM

বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। 

বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

শিক্ষা উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়) অধ্যাপক এম আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই বৈঠক হয়।

পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সভায় গুচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভর্তির বিষয়ে বিভিন্ন সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যদের মতামত গ্রহণ করা হয়। 

“সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার সিরাজ উদ-দৌলা খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকের সভায় মূলত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মতামত নেওয়া হয়েছে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সুবিধা অসুবিধাগুলো আমলে নেওয়া হয়েছে। 

“খুব দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, “আজ চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আমরা আমাদের মতামত জানিয়েছি। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরেছি। আমরা নিজস্ব পদ্ধতিতে এবার ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সে অনুসারে প্রস্তুতিও চলমান।”

কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে ভর্তিচ্ছুদের দুর্ভোগ এড়াতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া শুরু হয়। শুরুতে ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে আসে। পরে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ গুচ্ছে অংশ নেয়।

তবে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির বাইরে ছিল। 

আর ২০২৩ সালে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি প্রতিষ্ঠানটির ‘স্বকীয়তা’ ধরে রাখতে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এককভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির দাবি তোলে এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তারা এ প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে আসে।

এবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, গুচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো লাভবান হচ্ছে। বিপরীতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত উঁচু মানের বিদ্যাপীঠগুলোতে তাদের শিক্ষার মানকে বিসর্জন দিতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এ পদ্ধতিতে আর থাকতে চায় না বলে জানিয়েছে।