Published : 26 Oct 2025, 08:30 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ‘শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘বিতর্কিত’, ‘নিন্দনীয় ও ‘উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে, তা স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে শিক্ষকদের এই সংগঠন।
তারা বলেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অভিযোগটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও ক্লিপ, নাট্যকলা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্পর্শকাতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছে একজন চাকুরি প্রার্থীকে ‘রাজনৈতিক যোগাযোগে’ নাট্যকলা বিভাগের সভাপতির ‘উৎসাহ’ দেওয়া, ‘আর্থিক বা অনৈতিক বিনিময়ের’ ইঙ্গিত দেওয়া এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর লেখা যাচাই করে সুবিধা দেওয়া’।
নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ব্যাপারে বিভাগের সভাপতির দায়বদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, এটি ‘লঙ্ঘন’ করার মাধ্যমে বিভাগীয় সভাপতির প্রশাসনিক ও নৈতিক দায়িত্বের এমন ব্যত্যয় ঘটেছে যে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই ‘বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ’ হয়ে পড়েছে।
নাট্যকলা বিভাগের সভাপতির এমন আচরণ জন-আস্থার পরিপন্থি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী, শিক্ষকতা পেশার সততা ও নৈতিক মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মন্তব্য করে সংগঠনটি এমন ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সংবাদ ও ফোনালাপের অডিও প্রকাশের বিষয়ে তদন্তে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আসাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজনকে আইনি নোটিশ পাঠান নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত ইসলাম (হৃদয়)।
শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে অনশনে বসেছেন দুজন শিক্ষার্থী। তাদের অনশনের রোববার ছিল চতুর্থ দিন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রতীকী অনশনের পর শনিবার থেকে আমরণ অনশন শুরু করে তারা।
এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষক নেটওয়ার্ক পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হল-
>> দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
>> তদন্ত প্রতিবেদন সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় সমাজে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
>> তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
>> অনতিবিলম্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে সুষ্ঠু তদন্তের পর এ-বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
>> শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি ও অধিকার চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে দমননীতির বদলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহমর্মিতার পথ গ্রহণ করতে হবে।
আগের খবর:
রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ: আমরণ অনশনে ২ শিক্ষার্থী