Published : 02 Sep 2025, 08:50 PM
গ্রামবাসীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা দপ্তর থেকে ধারালো অস্ত্র ‘চুরি’ হওয়ার তথ্য দিয়ে তা ফেরত পেতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় থেকে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব অস্ত্র গেল বছরের ৫ অগাস্টের পর বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে জব্দ করা হয়, যা নিরাপত্তা দপ্তরে সংরক্ষিত ছিল। গত ৩১ অগাস্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাশ্ববর্তী জোবরা গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সময় এসব অস্ত্র চুরি হয়।
“চুরি হওয়া এসব দেশীয় অস্ত্র যাদের কাছে আছে, বিজ্ঞপ্তি প্রচারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেগুলো বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। নইলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন একটি ভবনের ভাড়াটিয়া এক ছাত্রীর সঙ্গে ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর বিতণ্ডার জেরে শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
রাতে শুরু হওয়া ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর সংঘর্ষ পরদিন রোববারও চলে দফায় দফায়। তাতে শিক্ষার্থী, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, উপউপাচার্যসহ কয়েকশ ব্যক্তি আহত হন।
সংঘাতের মধ্যে রোববার দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ক্যাম্পাস ও আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। স্থগিত থাকে সোমবারের ক্লাস-পরীক্ষা।
রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠকে এক সহকারী প্রক্টর তার বক্তব্যে সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা দপ্তর থেকে শতাধিক রামদা লুট হওয়ার তথ্য জানান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৬০টি রাম দা উদ্ধার করে। সেগুলো নিরাপত্তা দপ্তরের অস্ত্রগারে রাখা ছিল।
“অস্ত্রগারটি লুটের জন্য ছয়টি তালা ভাঙা হয়েছে এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের মারাত্মক আহত করা হয়েছে; উনারা শিক্ষার্থীদের পায়ে পড়েছেন। প্রোভিসি অ্যাডমিন স্যার শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছেন, তোমরা প্লিজ এটা করবা না।”
লুট হওয়া এসব অস্ত্র ফেরৎ পেতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সহযোগিতা চাইতেও শোনা যায় ওই সহকারী প্রক্টরকে।
ডয়েচ ভেলের খবরে বলা হয়েছে, ওই সহকারী প্রক্টরের নাম নাজমূল হোসাইন।
তার উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, “আরেকটা ভয়ংকর বিষয় এখানে বলি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আমরা জানি না হয়েছে কিনা, ২০ রাউন্ডের মতো শর্টগানের গুলি আমরা ফুটিয়েছি। কেন? কারণ হচ্ছে, ছাত্রদেরকে ব্যাকআপ দিয়ে পেছনের দিকে নিয়ে আসার জন্য। বারবার ছাত্রদের বলেছি, ফায়ার হবে উপরের দিকে, তোমরা ব্যাকে যাবা। এ কথাটা আমাদের কোনো ছাত্র শোনে নাই। ওরা বরঞ্চ আরও বেশি পরিমাণে সংঘর্ষে পূর্ব দিকে চলে যায়।
“আমাদের ছাত্ররা হয়তো মোমেন্টামের কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্রগুলো বারবার নিয়ে নিচ্ছিল। এটা ভয়ংকর একটা বিষয়। যেকোনো সময় একটা মিস ফায়ার হয়ে যেত পারত।”