Published : 15 Dec 2025, 09:46 PM
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো।
সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তাদের সেখানে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মীরা।
সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি।

উপ উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে আগে থেকেই ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে অবস্থানে ছিলেন ছাত্রদল ও বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরে ভবনের দুই পাশে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
এসময় ছাত্রশিবিরের মিছিল থেকে ‘চাঁদা চাঁদা করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা কর, চাঁদাবাজি ছাড় দে’, ‘লন্ডনে কামলা, দেশে চাঁদাবাজি শামলা', ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান' এর মত বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
অপরদিকে ছাত্রদল ও বাম সংগঠনের কর্মীরা ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘বাঁচতে হলে, লড়তে হলে–এই লড়াইয়ে জিততে হবে’, ‘তোমার দেশ, আমার দেশ–বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘রাজাকারের চামড়া তুলে ফেলবো আমরা’ এবং ‘রাজাকার ও পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’ এর মত বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে চাকসুর ভিপি রনি সেখানে গিয়ে বলেন, “প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়ার যে সংস্কৃতি আগে ছিল, তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তালার কারণে সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। যাদের কোনো দাবি বা সমস্যা আছে, তারা আমাদের জানান। আমরা সেগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরব।”
ছাত্র শিবিরের প্যানেল থেকে জয়ী এই ছাত্রনেতা দ্রুত তালা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক শামীমের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে তালা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীরসহ বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আগের দিন বুদ্ধিজীবী দিবসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন আয়োজিত ‘মুক্তচিন্তা, মুক্তিযুদ্ধ এবং একাত্তরের বুদ্ধিজীবী হত্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যার বিষয়টি ‘অবন্তর’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যে সময় পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদের দেশ থেকে পালানোর চেষ্টা করছে, সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে; আমি মনে করি এটি রীতিমত অবান্তর। কারণ, ওই সময় তারা তাদের জীবন শঙ্কায় ছিলেন।”
শামীম উদ্দিন খানের এ বক্তব্যের পর রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে তার সমালোচনা শুরু হয়।
পরে সকালে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সব ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শামীম উদ্দিন খানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে বলেন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল, নারী অঙ্গনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ প্রতিবাদে অংশ নিতে দেখা যায়।
পাকিস্তানি বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, মানতেই রাজি নন চবি উপ-উপাচার্য শামীম