Published : 31 Oct 2025, 01:11 AM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সমাজসেবা সম্পাদক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থী তাসনীম রহমান দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তিনি প্রাণীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘পথের প্রাণের’ একজন স্বেচ্ছাসেবী।
দোলন বলেন, “আমি সম্প্রতি আমার ফেইসবুক পেইজে জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। সেখানে বলেছিলাম, জাকসু ও হল সংসদ প্রাণীকল্যাণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, ফলে ক্যাম্পাসের প্রাণীরা বারবার বিপদের মুখে পড়ছে।”
তিনি বলেন, ওই পোস্টের পর তার বিভাগেরই শিক্ষার্থী ও জাকসুর সহ-সমাজসেবা সম্পাদক নিগার সুলতানা তাকে ফোন করেন।
“শুরুতে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও কিছুক্ষণ পর রূঢ়ভাবে কথা বলতে শুরু করেন। তিনি বলেন, আমি যেন ‘প্রাণীকল্যাণ আইন ২০১৯’ পড়ে আসি।
“তিনি আরও বলেন, আমি নাকি মানবাধিকার লঙ্ঘন করছি। এখন যদি পাঁচটি হল সংসদ মিলে আমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে, সেক্ষেত্রে জাকসু তাদের সমর্থন করবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা তাকে নির্বাচিত করেছে শিক্ষার্থীদের জন্য, প্রাণীদের জন্য নয়। শেষে তিনি আমাকে বলেন, ভবিষ্যতে এমন পোস্ট দেওয়ার আগে চিন্তাভাবনা করতে।”
দোলনের দাবি, এ ঘটনার পর তিনি মানসিক চাপে পড়েছেন।
“এটি হুমকিমূলক ও অগ্রহণযোগ্য। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ দুঃখজনক ও নিরুৎসাহজনক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকসুর সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “সহ-সমাজসেবা সম্পাদকের সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কথা হয়নি। যদি তিনি আসলেই এমন কিছু বলে থাকেন, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত। জাকসুর পক্ষ থেকে তাকে কখনোই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যাম্পাসে প্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জাকসুর প্রতিনিধিরা আগেও বৈঠক করেছেন এবং সংগঠনগুলোকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।”
অভিযোগের বিষয়ে নিগার সুলতানা বলেন, “দোলন আমার বিভাগের ছোট বোন। আমি তাকে কোনো হুমকি দিইনি। ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার আগে তথ্য যাচাই করতে বলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যারা বিভিন্ন হল সংসদে আছেন, তারা যদি ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেন, তখন আমাদের কিছু করার থাকবে না।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে জাকসু অবগত কিনা জানতে চাইলে নিগার বলেন,
“জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা আমাকে বলেছেন, তার সঙ্গে কথা বলতে।”