Published : 09 Sep 2025, 10:05 AM
ডাকসু নির্বাচনে রোকেয়া হলের কেন্দ্র টিএসসিতে প্রথম এক ঘণ্টায় কত ভোট পড়েছে তার ধারণা দিয়েছেন কেন্দ্র প্রধান অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা।
তিনি সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “আমাদের কেন্দ্রে ১৯টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। এক ঘণ্টায় প্রতিটি বুথে অন্তত ৪০ জন ভোট দিয়েছেন।”
এই হিসাবে প্রথম ঘণ্টায় কেন্দ্রটিতে ৭৬০টির মতো ভোট পড়েছে বলে ধারণা এ রিটার্নিং কর্মকর্তার।
অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেন, “আমাদের কেন্দ্রে যে ১৯টি বুথ রয়েছে, তাতে কোনোটাই ৩৬টি- আবার কোনোটাই ৪৫টি ভোটও পড়েছে।
“সবগুলো বুথের ভোটগ্রহণকে গড় করে আমাদের মনে হয়েছে প্রতিটি বুথে ৪০ জন করে ভোট দিয়েছেন প্রথম এক ঘণ্টায়। এই হিসাবে এক ঘণ্টায় বলা যায় ৭৬০ জনের মতো ভোট দিয়েছেন।”
এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রটির ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে মনে করছেন তিনি। প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের এ নির্বাচনে কেন্দ্রটিতে ভোটার রয়েছেন ৫৬৬৫ জন।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে টিএসসি কেন্দ্রে আসেন। এর আগে ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র এবং ইউ ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেছেন বলে জানালেন তিনি।
উমামা ফাতেমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন।
“কোনো কোনো প্রার্থী কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাচ্ছি। এছাড়া ভোটের পরিবেশ ভালো। ব্যাপক উৎসাহ দেখছি শিক্ষার্থীদের মাঝে। এটা দেখে ভালো লাগছে।”

টিএসসি কেন্দ্রে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ভোটের লাইন টিএসসির মাঠ পেরিয়ে ডাচের সামনের রাস্তা পর্যন্ত চলে আসে। এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে এই কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সকাল ১০টায় ছাত্রশিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম টিএসসি কেন্দ্রে ডাচের সামনের রাস্তায় আসেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন কোনো কথা বলব না।”
ছবি তুলতে গেলে আপত্তি জানিয়ে সাদিক কয়েম বলেন, “ছেলেদের কেন্দ্রে গেলে ছবি বা ভিডিও কইরেন। এটা তো মেয়েদের কেন্দ্র।
“এখানে ছাত্রীদের প্রাইভেসির বিষয় আছে। সব ছাত্রী তো ছবি তুলতে চায় না। প্লিজ ছবি বা ভিডিও কইরেন না।”

২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বৈশাখী মুখার্জী জীবনে দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিলেন টিএসসি কেন্দ্রে। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ভোট দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী বৈশাখী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খুবই শৃঙ্খলার সাথেই ভোটগ্রহণ চলছে। ডাকসুতে প্রথম ভোট দিলাম।
“আর এটা আমার জীবনের দ্বিতীয়বার ভোট দেওয়া। এজন্য খুবই আনন্দ লাগছে।”
পরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায় বৈশাখীকে। তিনি বলেন, “ভোট যে উৎসব, এই ফিলটা পাচ্ছি।”
সকাল ৮টা বাজার আগে থেকেই টিএসসি কেন্দ্রের সামনে দেখা যায়, ভোট দেওয়ার জন্য দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছিলেন।
তাদের একজন সুমাইয়া জাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেজ, “সবার আগে ভোট দেব। এই আশায় সকাল সকালই এসেছিলাম। এসে দেখি আমার আগেই আরো অনেকে চলে আসছে।”
পৌনে ৮টায় সাংবাদিকদের সামনে ভোটের বাক্স সিলগালা করা হয়। পরে ৮টা ৭ মিনিট থেকে এই কেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। এরপর ৮টা ১০ মিনিট থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
সকাল ৮টা ২০ মিনিটে টিএসসি কেন্দ্রে আসেন বাগছাস প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভোট শুরু হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট চলছে। সুষ্ঠ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলবে বলেই আমি বিশ্বাস করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আশা করি, তারা আমাদেরকে বিজয়ী করবেন।"
সকাল সাড়ে ১০টায় কার্জন হলে তিনি ভোট দেবেন বলেও জানান।

৮টা ২২ মিনিটে টিএসসি কেন্দ্রে আসেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদ। এ সময় সংবাদকর্মীরা তার বক্তব্য জানতে চাইলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ভোটারদেরকে তিনি সালাম দেন। কেন্দ্রের প্রবেশ গেইটে কিছু সময় দাঁড়িয়েও থাকেন। আবিদের সঙ্গে একজন ভোটারকে ছবি তুলতেও দেখা যায়। ৮টা ৩২ মিনিটে আবিদ বাইকে করে এ কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
৮টা ৫০ মিনিটে টিএসসি কেন্দ্রের সামনে একজন বহিরাগতকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নন বলে জানান। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
টিএসসি কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় তো অনেক বড় এলাকা। একজন হয়তো ঢুকে পড়েছে। আমরা তাকে সাথে সাথেই এখান থেকে বাইরে বের করে দিয়েছি।”
বহিরাগতের প্রবেশ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না, এমন প্রশ্নে শেহরীন বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই চলছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। একজন বহিরাগতের প্রবেশ করাটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।”