Published : 16 Jul 2025, 08:31 PM
বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ প্রসারে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নিয়াজ জামান।
বুধবার রাজধানীর আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘সপ্তম নেহরীন খান স্মৃতি বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মঞ্জুর এলাহী' অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ জামান।
তিনি ‘লিটারারি ট্রান্সলেশন অ্যান্ড ট্রান্সলেটরস: বাংলাদেশ অ্যান্ড বিয়ন্ড” শিরোনামে তার বক্তৃতায় সাহিত্যে অনুবাদ এবং অনুবাদকের গুরুত্ব নিয়ে গবেষণাধর্মী বক্তব্য তুলে ধরেন।
অধ্যাপক জামান বলেন, অনুবাদকরা দীর্ঘদিন সাহিত্যিক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন না। ১৯৭০ সালের পর থেকে অনুবাদকে সৃজনশীল কাজ এবং এই কাজের জন্য অনুবাদকরা পুরস্কৃত হতে পারেন বলে স্বীকৃতি দেওয়া শুরু হয়।
২০২০ সালের পেন আমেরিকার সম্মেলনে অনুবাদকদের জন্য যথাযথ সম্মানী, কপিরাইট এবং লেখকের মত অনুবাদকের নামও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশের বিষয়টি ইশতেহার আকারে গ্রহণ করা হয়। অনুবাদকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে বুকার পুরস্কারের মাধ্যমে। তারা লেখক এবং অনুবাদককে পুরস্কারের অর্থ সমানভাবে ভাগ করে দেন।
তার মতে, সাংস্কৃতিক ভিন্নতার কারণে অনুবাদে প্রকৃত সাহিত্যের স্বাদ আসে না বলে যে বিতর্ক তোলা হয়, সেক্ষেত্রে তিনি সাংস্কৃতিকভাবে নির্দিষ্ট শব্দগুলোকে ধরে রেখে তা অভিযোজিত করার কথা বলেন।
অধ্যাপক জামান বলেন, “বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে পারস্পারিক মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাঙালি এবং দেশের নতুন প্রজন্মে ইংরেজিভাষী বেড়ে যাওয়ায় বাংলা সাহিত্যের অনুবাদও এখন বাড়ছে। তবে বাংলাদেশি অনুবাদকদের বেশিরভাগ অনুবাদ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে, বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বা প্রকাশকদের দ্বারা প্রকাশিত হয়েছে, যাদের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা নেই। ফলে এই অনুবাদগুলি বিদেশি পাঠকদের কাছে পৌঁছতে পারে না।”
বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ প্রসারে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদার করার কথা বলেন অধ্যাপক জামান। সেইসাথে ভালো মানের ই-বুক প্রকাশ এবং আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। অনূদিত সাহিত্যের প্রসারে জার্নাল এবং সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দেন।
অন্যদের মধ্যে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ফকরুল আলম, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রয়াত নেহরীন খানের স্বজনরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।