Published : 30 Jun 2026, 12:15 AM
নতুন অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৩ কোটি ২১ লাখ টাকার অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার সিনেট অধিবেশনে এ বাজেট ঘোষণা করা হয়, যেখানে গবেষণায় গত অর্থ বছরের মত আলাদা বরাদ্দ না থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সিনেট সদস্যদের কেউ কেউ বলছেন, গবেষণা খাতে আলাদা করে বরাদ্দ না দেওয়াটা দুঃখজনক।
তবে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সিনেট সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব শারমীনা নাসরীন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন গবেষণা খাতে বরাদ্দ এক জায়গা থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়ার কথা বলেছে, যা সরকারের সিদ্ধান্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সিনেট সভায় বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা খাতে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাহলে আমরা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের কথা বলছি, তাহলে এক টাকা বরাদ্দ ছাড়া কীভাবে করা সম্ভব?
“আর আপনারা (সরকারের প্রতিনিধি) গবেষণা খাতে বরাদ্দ ‘না দেওয়ার সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন, সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত কী তা গ্রহণ করেছেন?”
এ বিষয়ে যুগ্মসচিব শারমীনা নাসরীন বলেন, “প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আলাদাভাবে একটা বরাদ্দ দেয়। এ বছর অর্থ মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি সমন্বয় করে যে মিটিং হয়, ওখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দটা ‘কার্টেল করে’ (একত্র করে) এটা ইউজিসিকে দেওয়া হয়েছে। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত।”
তিনি বলেন, “এ প্রস্তাবে যদি সরকার সফল হয়, তাহলে হয়ত ইউজিসির মাধ্যমে এই বাজেটটা বাস্তবিত হবে। আর ব্যর্থ হলে হয়তবা অন্য কোনো সিস্টেমে আসবে। কাজেই কথাটি এখানে না বললে ভুল ব্যাখ্যার অবকাশ থেকে যায়।”

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল ইউজিসি। তবে এবার আলাদা করে বরাদ্দ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে না দিয়ে ইউজিসির কাছে বরাদ্দের অর্থ রেখে তা বাস্তবায়নের কথা বলছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠিয়ে ইউজিসি বলছে, এটা সরকারি সিদ্ধান্ত।
তবে আগের মতই আলাদা করে বরাদ্দ দেওয়ার কথা তুলে ধরে সিনেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, “গবেষণা নিয়ে অনেক আলাপ হচ্ছে। গবেষণার বরাদ্দই নেই, সেটি নিয়ে কী বলব! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করি।
“গবেষণার বরাদ্দটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে নয়। এটি আমাদের বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার সম্পূর্ণ বিরোধী।”
সামিনা লুৎফা বলেন, “গবেষণার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ফান্ডের জন্য আমরা আবেদন করি। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফান্ড নিয়ে আসি। কিন্তু এই ফান্ড চাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে, অনেক প্রশাসনিক কাগজপত্র দরকার হয়। টাকা নিয়ে আসলে একটি অডিটের প্রয়োজন হয়।
“এই বিষয়গুলো শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে করার নজির পৃথিবীতে নেই। পৃথিবীর সব দেশেই আলাদা রিসার্চ সেন্টার থাকে, ব্যুরো থাকে, রিসার্চ অফিস থাকে, যারা এই প্রশাসনিক কাজগুলো করতে সহযোগিতা করে। আমাদের এখানেও গবেষণার জন্য আলাদা ইকোসিস্টেম তৈরি করা উচিত।”