Published : 10 Jul 2026, 12:50 AM
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ‘মারধর, জোর করে ভিডিও বক্তব্য নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুনের বিরুদ্ধে।
বৃস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে এ ঘটনার পর রাত ১১টাযর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রায়হান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ভুক্তভোগী অভিযোগ জমা দিয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রায়হানের অভিযোগ, গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার এলাকায় খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের মামুনের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার ঘটে। সেই ঘটনার জেরে পরদিন মারামারিও হয়। এ দুই ঘটনায় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় তাকে নাজেহাল ও নির্যাতন করেন মামুনসহ তার সঙ্গীরা।
তার ভাষ্য, “সেখানে তারা আমার মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। শুধু তাই নয়, তারা দুই বছরের জন্য ছাত্রত্ব বাতিল ও বহিষ্কারের ভয় দেখায় এবং মাটিতে পুঁতে ফেলার হুমকি প্রদান করে।”
একপর্যায়ে জোরপূর্বক তার ভিডিও বক্তব্য রেকর্ড করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মামুন হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাকে কোনো ধরনের হুমকি বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়নি, মারধরও করা হয়নি। আমি একাই তার সঙ্গে কথা বলেছি। এ সময় আমার বন্ধুরা অন্যদিকে ছিল।”
ভিডিও বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তার কাছ থেকে কোনো ভিডিও বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়নি। ছোট একটি ঘটনাকে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার কথা তুলে ধরে বলেন, “আসলে যদি কেউ কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী যদি আমাদের (ছাত্রদলের) কাছে অভিযোগ দেয় এবং তো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে মামুনের বিরুদ্ধে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। এসব দিক থেকে ছাত্রদলের অবস্থান স্পষ্ট।”