Published : 16 Nov 2025, 01:14 AM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাত ১০টার পর সব ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
আগের এক সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাত ১০টার পর ক্যাম্পোসে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করা যাবে না।
“রাত ১০টার পর অনুষ্ঠান চললে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি বা রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়া অনুষ্ঠান চলাকালে শব্দের মাত্রা সহনীয় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ফাইজা মেহজাবিন প্রিয়ন্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জাহাঙ্গীরনগরের মতো সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে রাত ১০টার পর সাংস্কৃতিক আয়োজন নিষিদ্ধ করা এ ধরনের সিদ্ধান্ত আগের প্রশাসনও নিয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন তা আরও জোরালোভাবে করল।
“এ ধরনের সিদ্ধান্ত মূলত এক ধরনের রিপ্রেসিভ থট বা অবদমিত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ, যা অনেক সময় অযৌক্তিক অস্তিত্ব-সংকট থেকে প্রশাসনকে করতে দেখা যায়।”
তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে সবাই যখন একাত্ম হয়, তা কি প্রশাসন ও শাসকগোষ্ঠীর জন্য কোনো ‘সংকট’ হয়ে দাঁড়ায়? তারা যেন চায় ছাত্ররা বিচ্ছিন্ন থাকুক, হলের চার দেয়ালের ভেতরেই বন্দি থাকুক। ক্যাম্পাসের অঙ্গন নিয়ে যেন ভাবনাই না থাকে। তাতে প্রশাসনের কৃতকর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মানুষও কমে যাবে।”
তিনি বলেন, “এই ক্যাম্পাস যাপন শেখায়, এই ক্যাম্পাস বাঁচার আনন্দ দেয়; বাঁচার মতো বাঁচতে দেয়। সেই ক্যাম্পাসেই আজ এমন সংকীর্ণ বিজ্ঞপ্তি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে।”
এর আগে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি আসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে সেই আদেশে বলা ছিল, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠান তিন বছরে একবার আয়োজন করা যাবে; ব্যাচভিত্তিক রিইউনিয়ন আয়োজন করা যাবে না।
আর রাত ১০টার পর কোনো অনুষ্ঠান চললে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি আয়োজক সংগঠনকে কালো তালিকাভুক্ত করার কথা বলা হয় সেই বিজ্ঞপ্তিতে।
দুই বছর আগের সেই নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ সিদ্ধান্ত হিসেবে মন্তব্য করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর।
তিনি বলেন, “নিজেদের বারবার জুলাই অভ্যুত্থানের ‘প্রোডাক্ট’ হিসেবে দাবি করা এই প্রশাসন বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী আমলের প্রশাসনের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বরাত দিয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, যা আমাদের কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার করে।”
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলায় মদদকারী শিক্ষকদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে এই প্রশাসনের বারবার নিজেদের ‘জুলাইয়ের প্রোডাক্ট’ দাবি করাটাকে আমরা জুলাইয়ের শহিদদের প্রতি বেঈমানি হিসেবেই দেখি।”