Published : 26 Jul 2026, 04:57 PM
দেশে বর্তমানে চার কোটি বেকার যুবক রয়েছে তথ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “চাকরির একটা পদের বিপরীতে বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে।
কিন্তু দেশে সে পরিমাণ কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। তাই বেকারত্ব সমস্যা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়।”
শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “এই ছেলেমেয়েরা যখন পাস করে ঘুরে বেড়ায়, আমাদের কাছে প্রায়ই এসে বলে- স্যার চাকরি চাই। চাকরি কোথায়? চাকরি তো নাই! তো চাকরি তৈরি করতে হবে নিজেদেরকে। আমরা কেন এখন চিন্তা করি না যে, আমি নিজেই কর্মসংস্থান করব? আমিই একটা কারখানা করব, একটা ফার্ম করব, একটা পোল্ট্রি করব। তাহলে কিন্তু অনেকটা সে অবস্থা যাবে। আমি তাই অনুরোধ করব সবদিক চিন্তা করতে হবে, চিন্তা করে এগোতে হবে।”
রাজধানীর শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রোববার নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সুযোগ সবসময় আসে না, এখন আমাদের সামনে একটা সুযোগ এসেছে। আমরা এমন একজন নেতা (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) আজ পেয়েছি; যার কথা জোর গলায় বলতে পারি। তিনি কাজ করতে চান, দেশের কল্যাণ করতে চান, পরিবর্তন আনতে চান। তাকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে।
“তোমাদের দায়িত্ব আছে দেশের প্রতি। তোমাদের দেশকে কন্ট্রিবিউট করতে হবে। যখন তোমরা লেখাপড়া শেষ করবে, এর মধ্য দিয়ে তোমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
ছাত্র রাজনীতি বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনীতি আমরা সবসময় করি, থাকবে। রাজনীতি না থাকলে দেশ চলবে না। গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি দীর্ঘ বছর। কিন্তু সেটা (রাজনীতি) যেন নেতিবাচক না হয়, সবসময় ইতিবাচক। দেশের কল্যাণের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য, রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য।”
কৃষিতে শিক্ষার্থীদের অবদান রাখতে ও মাটিকে ভালোবাসার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি দেখেছি কৃষির উপরে যারা পড়াশোনা করেন তারা অনেকেই কিন্তু কৃষির লাইনে থাকেন না। বিসিএস দিয়ে আপনারা চলে যান। কেউ পুলিশ অফিসার হন, কেউ ডিসি হন। অনেকে অন্যান্য লাইনে চলে যান। কারণ সেই চাকরিগুলো অনেক বেশি আপনার কাছে আকর্ষনীয়।
“তবে আমি সবসময় মনে করি, কৃষিতে যারা কাজ করেন সেটা শিক্ষার্থী হোক শিক্ষক অথবা মাঠে যারা কৃষি কাজ করছেন তারা অথবা যারা ডেসিমিনেট করছেন টেকনোলজিটাকে; তারা আমার কাছে মনে হয়, বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
অনুষ্ঠানে আরো কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবদুল লতিফ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এদিকে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মন্ত্রী ও উপদেষ্টার উপস্থিতিতে কয়েকজন শিক্ষার্থী উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। পরে শিক্ষকরা ওই শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়ামের বাইরে নিয়ে কথা বলেন।