১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবিতে শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম বদলের দাবি ডাকসুর

জুলাই অভ্যুত্থানে ‘গণহত্যার’ সমর্থন দেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে ছাত্র সংগঠনটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Dec 2025, 12:19 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:21 PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ রাখার দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু।

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্ত্রী বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে থাকা একটি ছাত্রী হলের নাম বদলে ‘ফেলানী হল’ রাখার দাবি তুলেছে ছাত্র সংগঠনটি। তবে এ দাবির বিষয়ে হল সংসদের নির্বাচিতদের সঙ্গে আলোচনা না করায় আপত্তি তুলেছেন হলের ভিপি ও জিএস।

পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানে ‘গণহত্যার’ সমর্থন দেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছে ছাত্র সংগঠনটি।

রোববার দুপুর আড়াইটায় এ তিন দাবিতে উপাচার্যের দপ্তর ঘেরাও করার কর্মসূচি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন ডাকসুর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ।

শনিবার সন্ধ্যায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবর আসার শেখ মুজিবুর রহমান হলের নামফলকের ওপর ‘শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হল’ নামের পোস্টার লাগিয়ে দেন ওই হল সংসদের ভিপি ও জিএস। 

তারা সেদিন হলের নাম বদলের দাবি জানান।

ডাকসুর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “মুজিব হলের নাম পরিবর্তন করে শহীদ ওসমান হাদি হল করা, ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম পরিবর্তন করে ফেলানী হল এবং জুলাই গণহত্যার সমর্থন দেওয়া শিক্ষক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ভিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম।”

এদিকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের নাম বদলে ‘ফেলানী হল’ করতে যে দাবি তোলা হয়েছে সেটির ক্ষেত্রে ওই হল সংসদের কারও সঙ্গে  যোগাযোগ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন হলের ভিপি ও জিএস।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভিপি তাসনিম আক্তার নাবিলার দাবি, “আমার হল সংসদের পক্ষ থেকে আমাদের না জানিয়ে কেন এরকম কর্মসূচি দেওয়া হল- তা নিয়ে ডাকসুর জবাব চাই।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “রাতে হল সংসদের সভা আছে। সেখান থেকে আমরা সামগ্রিক সিদ্ধান্ত জানাব।”

এ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত ফেইসবুক পোস্টে হলের নাম বদল নিয়ে তাদের সঙ্গে ডাকসুর কারও আলোচনা করার অভিযোগ তোলেন।

ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “নাম পরিবর্তন নিয়ে আমরা একমত ছিলাম এবং সেইটি নিয়ে আমাদের হলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে আমরা মেয়েদের মতামতও সংগ্রহ করছিলাম। তবে ডাকসুর অফিশিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকে এই পোস্ট দেওয়ার আগে আমাদের হল সংসদের কারো সাথে যোগাযোগ করা হয়নি।

“আমার হলের নাম নিয়ে মেয়েদের সিদ্ধান্তসহ সামগ্রিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তাদের চাওয়া ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আমার হলের কারো সাথে কথা না বলে ডাকসু এই পোস্টটি করেন। এর কোনো উত্তর কারো কাছে আছে?

“আমার হলের বিশাল সংখ্যক মেয়েদের নাম সম্পর্কে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া অপশনটি ছিল ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম যিনি একজন বীরপ্রতীক, তারা চেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখা, বাংলার নারীদের লড়াইয়ের  প্রতীক হওয়া নারীদের নামে হউক তাদের হলের নাম। উল্লেখ্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া অপশনটি ছিল ফেলানী হল। এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা এই দুইটি নাম নিয়েই কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি। তবে এই ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তের উপর নিন্দা জানাই।”

এ বিষয়ে রিফাতকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ফেইসবুক প্রোফাইলটি তারই বলে জানিয়েছে ভিপি নাবিলা।

এ বিষয়ে ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সাথে কিছুক্ষণ আগে হল সংসদের ভিপি-জিএসের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। দ্বিমতের কিছু নেই। দুইটা আলাদা পোলে দুইটা মতামত (সীতারা বেগম ও ফেলানী) এসেছে। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের একপক্ষের মতামতটা আসার কারণে বিষয়টা ঘটেছে। 

“এখানে নাম পরিবর্তনটাই মুখ্য বিষয়, হলের কোন নাম হবে তা শিক্ষার্থীদের মতের মাধ্যমেই ঠিক হবে।”

এর আগে এ বছর ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ এর নাম থেকে ‘জাতির জনক’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বাদ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

ঢাবিতে বঙ্গবন্ধু হলের নাম বদলে হাদির নাম দিলেন হল সংসদ নেতারা