সোনার দামে বড় পতন, দুই দিনে ভরিতে কমল ৭,১১৫ টাকা
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল।
বিশ্ববাজারে দরপতনের মধ্যে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শনিবার ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে। তাতে এই মানের সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা।
শুধু ২২ ক্যারেট নয়, অন্যান্য মানের সোনার দামও কমিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি। কমানো হয়েছে রুপার দামও। শনিবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
এর আগে চার দফায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা কমানোর পর বুধবার ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। পরদিন বৃহস্পতিবার আরও ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। তাতে ভরির দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।
এরপর শুক্রবার ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। শনিবার আরও ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে দুই দিনে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিতে দাম কমেছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের বাজারেও সোনার দাম বেড়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল। দেশের বাজারে এটি ছিল সর্বোচ্চ দাম। এরপর থেকে কয়েক দফা বাড়ানো-কমানোর মধ্য দিয়ে সোনার বিকিকিনি চলছে।
নতুন দাম
বাজুসের নতুন দর অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা থেকে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনা ভ্যাটসহ ১৮ হাজার ৬৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি হিসাবে প্রতি ভরির দাম পড়ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৯২ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টার আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম কমেছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।
বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (বিশুদ্ধ সোনা) দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারেও দরপতন
রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে গত ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে ৫ হাজার ৫১১ ডলার ২৮ সেন্টে উঠেছিল।
সেদিন দেশের বাজারেও ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল। পরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারও ছাড়িয়ে যায়।
এরপর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দামে ওঠানামা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দর কমতে কমতে প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে।
গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লেও পরদিন বুধবারও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ২৯ অক্টোবর থেকে আবার দরপতন শুরু হয়।
শুক্রবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৯৮৭ ডলার ৫৬ সেন্ট।
আর শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৮৭৫ ডলার ৫৩ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে ১৪৩ ডলার ৮২ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
রুপার দামও কমেছে
সোনার পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস।
নতুন দর অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা। প্রতি গ্রামের দাম ৩০০ টাকা।
শনিবার সকাল ১০টার আগে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরির দাম ছিল ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। নতুন দরে ভরিতে কমেছে ১৭৫ টাকা।
অন্যান্য মানের রুপার দামও প্রায় একই হারে কমানো হয়েছে।
