পোশাক রপ্তানিতে ‘শঙ্কার’ কথাই বলল বিজিএমইএ

আগের মাসের মত অক্টোবর-নভেম্বরেও রপ্তানি কমে যাওয়া অব্যাহত থাকার আশঙ্কা সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসানের।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2022, 02:56 PM
Updated : 30 Oct 2022, 02:56 PM

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাবে একদিকে উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্রয়াদেশ কমার কারণে পোশাকের দাম কমাচ্ছেন রপ্তানিকারকরা। এরপরও ক্রেতা না মিলছে না বলে দাবি বিজিএমএই সভাপতি ফারুক হাসানের।

এসব কারণে আগামী দুই মাসে পোশাক রপ্তানি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

রোববার উত্তরায় তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এমন শঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিজিএমইয়ের ’সেন্টার অব ইনোভেশন, এফিশিয়েন্স অ্যান্ড ওএসএইচ’ উদ্বোধন এবং পোশাক শিল্পের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

চলমান জ্বালানি সংকট কাটাতে সরকারের কাছে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ এবং উৎসে কর না বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস তৈরি পোশাক রপ্তানি টানা প্রবৃদ্ধির মধ্যে ছিল। তবে ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমের দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিতেও বড় প্রভাব ফেলেছে।

এ ধারার মধ্যে সেপ্টেম্বরে এসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে মোট রপ্তানি কমেছে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর পোশাক রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এমন প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ সভাপতির আশঙ্কা অক্টোবরে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে এবং নেতিবাচক ধারা নভেম্বরেও অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিসহ প্রধান বাজারগুলোতে রপ্তানি কমার তথ্য জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ”ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং খুচরা বাজারে প্রভাবের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

তিনি  জানান, গত অর্থবছরের অগাস্ট থেকে চলতি অর্থবছরের অগাস্ট পর্যন্ত পোশাক শিল্পে টানা প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যে কারণে গত অর্থবছরে এ খাত থেকে রপ্তানি হয়েছে ৪২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অগাস্টেও প্রবৃদ্ধি ভালো ছিল।

তবে এর পর থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, গত দুই মাসে ক্রয়াদেশ ক্রমশ কমছে। টিকে থাকতে বাধ্য হয়ে শিল্প মালিকরা পোশাকের দাম কমাচ্ছেন। তবুও তৈরি পোশাকের ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা।”

এমন পরিস্থিতিতে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

পোশাক শিল্পে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের এই নেতা।

তিনি বলেন, “স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের প্রভাব আমাদের পোশাক শিল্পেও পড়ছে। এতে করে দুইভাবে শিল্পে ব্যয় বাড়ছে। বিদ্যুতের অপ্রতুলতার কারণে কারখানাগুলোতে ডিজেল দিয়ে জেনারেটরগুলো চালানো হচ্ছে। অন্যভাবে, অধিক  সময় জেনারেটর চালানোর কারণে সেগুলো ঘনঘন বিকল হচ্ছে। এতে করে শিল্পে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।”

এসময় সরকারের কাছে রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানাগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থায় চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি সার উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পে সরবরাহের প্রস্তাব দেন তিনি।

এর কারণ ব্যাখ্যায় ফারুক বলেন, “সার চাইলে আমরা আমদানি করতে পারি। শিল্প কারখানাগুলোর উৎপাদন ঠিক থাকলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আসা অব্যাহত থাকবে। পণ্য রপ্তানির অর্থ দিয়ে ডলারের সংকট সামাল দেওয়া যাবে।”

উৎসে কর না বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ”এ অর্থবছরে উৎসে কর ১% করা হয়েছে, সেটি পূর্ববর্তী অর্থবছরের ন্যায় একই পর্যায়ে রাখা হোক।”

এসময় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে রপ্তানিমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো কর্মসূচি না দেওয়ারও আহ্বান জানান বিজিএমইএ সভাপতি।

সংগঠনের ‘উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র’ নিয়ে তিনি বলেন, “এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্দেশ্য বাংলাদেশ পোশাকখাতে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে কোথায় অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে ব্যর্থ হচ্ছে তা খুঁজে বের করা। শিল্পের চাহিদার ভিত্তিতে পাঠ্যক্রম তৈরি করা এবং প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রমের পরিবর্তন করা। এ সেন্টারে কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য উচ্চ প্রশিক্ষিত প্রশিক্ষকদের একটি পুলও থাকবে।”

সাম্প্রতিক দক্ষিণ কোরিয়া সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের জন্য একটি উদীয়মান বাজার যেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিজিএমইএর উদ্যোগে ১২ থেকে ১৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) মেইড ইন বাংলাদেশ উইক আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, পরিচালক খসরু চেীধুরী।

Also Read: সেপ্টেম্বরে রপ্তানিতে পিছুটান, প্রবৃদ্ধি কমেছে ৬.২৫%

Also Read: অগাস্টে রপ্তানি বেড়েছে ৩৬%

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক