রোজায় স্থিতিশীল বাজারে পণ্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে কমবে: সংসদে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

মজুদদারি বা দাম নিয়ে কারসাজির চেষ্টা হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Feb 2024, 02:45 PM
Updated : 11 Feb 2024, 02:45 PM

আসছে রোজায় নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আবারও আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। 

সেই সঙ্গে চারটি পণ্যের শুল্ক পুনর্নির্ধারণ হওয়ায় ভোজ্যতেলসহ কিছু পণ্যের দামও যৌক্তিক পর্যায়ে নামবে বলে আশা তার। 

রোববার জাতীয় সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

একই সঙ্গে রোজায় খাদ্যপণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি মজুদদার ও বাজার কারসাজিকারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। 

বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে নিরবচ্ছিন্ন পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে রাখতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি, বাজারে পণ্য সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকলে কারসাজি করে কেউ দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর সুযোগ পাবে না। 

“দ্বিতীয়ত, টিসিবির মাধ্যমে ১ কোটি পরিবার মানে ৫ জন করে বিবেচনা করে প্রায় ৫ কোটি মানুষ সুবিধাভোগী হিসেবে এ রমজানে দুইবার পাঁচ ধরনের খাদ্যশস্য বিতরণ শুরু করব। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে শুরু করব। রমজানের আগে আরেকবার। আশা করি, কিছুটা হলেও ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি ফিরে আসবে।” 

বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চারটি পণ্যের শুল্ক পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। 

“এ সপ্তাহে আমদানিকারক ও পণ্য উৎপাদনকারীদের সঙ্গে বসব এবং মূল্য নির্ধারণ করে দেব। আশা করি, নতুন যে প্রাইস নির্ধারণ হবে ভোজ্যতেলের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে কমে আসবে এবং ভোগ্যপণ্যের দামও যৌক্তিক পর্যায়ে কমে আসবে।”

উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আরও একটু সময় চাইব। এ রমজানের শুরুতে আগের মতো বাজার যেন কোন দিকে না যায়, যদি কোনো দুযোগপূর্ণ ঘটনা না ঘটে বাজার স্থিতিশীল থাকবে আশা করি।” 

হবিগঞ্জ-৩ আসনের সৈয়দ সায়েদুল হকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে আমরা নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে গতকালও (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী পরিবহন পর্যায়ে, বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা না হয় সে ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন। বাস্তবায়নে কৃষি, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিতভাবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। 

“আন্ত:মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে, কমিটির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী রমজানে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্যের সরবরাহ ভোক্তা পর্যায়ে নিশ্চিত করতে পারবে। কোনো রকম মজুদদারি বা কারসাজি করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” 

ঝিনাইদহ-৩ আসনের সালাউদ্দিন মিয়াজীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে টিটু বলেন, প্রত্যেক পণ্যের আমদানি এবং উৎপাদন পর্যায়ে দাম নির্ধারণ করে ভোক্তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মনিটরিং চালু রাখতে একটা হট লাইন চালু আছে।

“ভোক্তারা প্রতারিত হলে বা বেশি দাম হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। আগামীতে রজমানের আগেই ৩৩৩ একটা হটলাইন চালু করছি। সেখানে কৃষি খাদ্য যে কোনো পণ্য যদি যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় তারা ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা বাজারটা শুধু পুলিশিং করে না বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করে বাজার স্থিতিশীল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।” 

আগামী রোজায় এ পর্যন্ত যে পরিমাণ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দরকার তা যথেষ্ট পরিমাণে আমদানি হয়েছে, মজুদ রয়েছে বলে সংসদে তুলে ধরেন তিনি। 

প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, “চাল থেকে আরম্ভ করে যেকোনো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যথেষ্ট পরিমাণ আছে। আমরা শুধু সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যদি এটি ভোক্তা পর্যায়ে পৌছে দিতে পারি আমরা আশা করি কোনো মজুদদার কারসাজি করার সুযোগ পাবে না।” 

Also Read: রোজার আগে কমল চাল, তেল, চিনি ও খেজুরের শুল্ক

Also Read: চাঁদাবাজি ও মজুতদারি বন্ধে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আরেক সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আগামী রমজানকে সামনে রেখে পেঁয়াজ এবং চিনির ব্যাপারে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে যোগাযোগ করেছি। এবং এই দুইটি পণ্যের বিষয়ে রপ্তানি নিষিদ্ধ ছিল, বাংলাদেশকে প্রতিবেশী বন্ধুসুলভ দেশ হিসাবে কনসিডার করে তারা আমাদের এই রমজানের আগেই পেঁয়াজ এবং চিনি রপ্তানির জন্য অনুমোদন দেবেন বলে আশা করছি।” 

তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফর করে এসেছেন। সেখান থেকে তিনি আস্বস্ত হয়ে এসেছেন যে প্রক্রিয়া চলছে। 

“আশা করি রমজান শুরুর আগেই আমরা ভারত থেকে এবং বিকল্প অন্য মাধ্যম থেকেও পেঁয়াজ এনে দ্রব্যমূল সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।”