০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

হোটেল খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে: মো. আল আমিন

“গ্রাহকদের জীবনযাপন বদলে গেছে; তারা নিজেদের এখন বৈশ্বিক নাগরিক ভাবেন, যার প্রভাব পড়েছে হোটেল ও আতিথেয়তা খাতেও।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 10:42 PM

Updated : 02 Nov 2026, 10:42 PM

দেশের হোটেল খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি দেখছেন রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আল আমিন।

তার মতে, সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা গেলে দেশের আতিথেয়তা খাতকে এশিয়ার অন্যান্য দেশের সমপর্যায়ে, এমনকি তাদের চেয়ে এগিয়ে নেওয়াও সম্ভব।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনা ও দক্ষ জনবল তৈরিতে মনোযোগ দিতে বলেছেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন— চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস অনুষ্ঠানে এসব অভিমত তুলে ধরেন আল আমিন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেইসবুক পেইজে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়।

এতে ঢাকার হোটেল ব্যবসার পরিবর্তন, বিদেশি অতিথিদের চাহিদা, বাংলাদেশের খাবারের বৈশ্বিক সম্ভাবনা, আতিথেয়তা খাতের জনবল, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

মো. আল আমিনের চোখে, গত এক দশকে ঢাকার হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেছে।

তিনি বলেন, “ফিডার মার্কেটে (যে দেশ থেকে অতিথি বা গ্রাহক আসেন) পরিবর্তন এসেছে। গ্রাহকদের সেবা নেওয়ার আচরণ বদলে গেছে।

“২০১০ সালের পর ঢাকা মূলত ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের গন্তব্য ছিল। অবকাশযাপনকারী পর্যটক টানা খুব একটা সম্ভব হয়নি। যারা ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে আসতেন, তারাই মূলত ফাইভ স্টার হোটেলগুলোতে উঠতেন।”

কিন্তু গত ১০ বছরে গ্রাহকদের ব্যয় করার সক্ষমতা বেড়েছে, ফলে পাঁচ তারকা হোটেলে গ্রাহকগোষ্ঠীর পরিধি বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এ পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, “গ্রাহকদের জীবনযাপনের ধরনও বদলেছে। তারা নিজেদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছেন। এর প্রভাব পড়েছে হোটেল ও আতিথেয়তা খাতেও।

আগামী ১০ বছরে এ খাতে আরও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন মো. আল আমিন।

"গত ১০ বছরে অবশ্যই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে কিছু সমস্যা ছিল, যেগুলো প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এখন আমি খুবই আশাবাদী যে আগামী ১০ বছরে আমাদের আতিথেয়তা খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধাক্কা

জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। এরপর ক্ষমতায় আসে মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর দেড় বছরের মাথায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় বসে বিএনপি।

দেড় বছরের এই রাজনৈতিক ডামাডোলের প্রভাব দেশের হোটেল খাতেও পড়েছে বলে মনে করেন আল আমিন।

তিনি বলেন, বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের ওপর নির্ভরশীল হোটেলগুলো এ সময়ে বেশি চাপে ছিল।

নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের ভ্রমণ সতর্কতা জারির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, "কোনো দেশে যাওয়ার আগে সবাই প্রথমে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে। বাংলাদেশ নিয়েও অনেক দেশ ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছিল। এখন হয়তো কিছু দেশের ক্ষেত্রে তা শিথিল হয়েছে। তবে বেশির ভাগ দেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়নি।”

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় হোটেলগুলোকে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার মধ্যে পড়তে হয় বলে মনে করেন মো. আল আমিন।

তিনি বলেন, চাহিদা কম থাকায় হোটেলগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক দামে কক্ষ ও সেবা দিতে হয়েছে। এতে এক ধরনের মূল্যযুদ্ধ তৈরি হয়, যা শিল্পের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।

গ্রাহকের চাহিদা বদলেছে

মো. আল আমিনের মতে, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যবসার কৌশলেও পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানের পাঁচ তারকা হোটেলের গ্রাহকেরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ করে খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা বেশ সচেতন। কারণ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের কারণে তারা খাবার ও সেবার মান সম্পর্কে বেশি ধারণা রাখেন।

"তারা আমাদের টাকা দেন এবং সেবা চান। সেখানে কোনো আপস তারা চান না।”

তার মতে, পাঁচ তারকা হোটেলের মূল প্রতিশ্রুতি হওয়া উচিত নিখুঁত সেবা।

কোনো ভুল হলে অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে তা পুষিয়ে দেওয়ার চেয়ে ভুল না করার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশি খাবারের বৈশ্বিক সম্ভাবনা

বাংলাদেশি খাবার সুস্বাদু ও বৈচিত্র্যময় হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে মনে করেন মো. আল আমিন।

তার মতে, প্রতিবেশী দেশগুলো নিজেদের খাবারকে বিশ্ববাজারে যেভাবে তুলে ধরেছে, বাংলাদেশ তা পারেনি।

এর অন্যতম কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত গবেষণা না হওয়ার কথা বলেন তিনি।

নতুন প্রজন্মের অনেক গ্রাহক এখন স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী খাবারকেও নতুনভাবে উপস্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

কাচ্চি বিরিয়ানি ও ঝাল খাবারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক গ্রাহক অতিরিক্ত চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও ঝাল খাবার এড়িয়ে চলেন।

ইলিশ মাছকে আন্তর্জাতিক অতিথিদের কাছে বাংলাদেশের একটি অনন্য খাবার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

তবে ইলিশের কাঁটা বিদেশি অতিথিদের জন্য সমস্যা হতে পারে। তাই কাঁটা ছাড়িয়ে ইলিশ দিয়ে নতুন খাবার তৈরির বিষয়ে গবেষণা করা যেতে পারে বলে তার মত।

"আমাদের এমন একটি অনন্য খাবার তৈরি করা উচিত, যেটি বিশ্বের যেকোনো জায়গায় গেলে বলা যাবে এটি বাংলাদেশের একটি অনন্য খাবার। এখন পর্যন্ত আমরা সেটি করতে পারিনি।

“কীভাবে ইলিশের কাঁটা ছাড়িয়ে সেটি দিয়ে নতুন খাবার তৈরি করতে পারি, তা নিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। এরপর এমন একটি মেনু তৈরি করা যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে তুলে ধরা যাবে। হোটেল হিসেবে আমরা মাঝে মাঝে এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। তবে আমরা এখনো পরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছি।”

Image

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস অনুষ্ঠানে রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের মহাব্যবস্থাপক মো. আল আমিন।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি

রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের এ মহাব্যবস্থাপকের দৃষ্টিতে, আতিথেয়তা খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

তার মতে, বাংলাদেশে এই শিল্পকে নিয়ে ১০ বা ২০ বছরের নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। কোথায় পৌঁছাতে হবে এবং কী কী লক্ষ্য অর্জন করতে হবে, সেটিও নির্দিষ্ট করা হয়নি।

"আমাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা না থাকলে আমরা শুধু বলব, আমরা ভালো কিছু করার চেষ্টা করছি। আমরা খুব ভালো করছি। কিন্তু ‘খুব ভালো’ একটি সাধারণ শব্দ। এর পেছনে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা থাকতে হবে।”

তার মতে, সরকারের সহায়তা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা গেলে এ খাত দ্রুত এগোতে পারে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণোদনার বিষয়টিও পরিকল্পনায় থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। কারণ বিনিয়োগকারীরা এমন জায়গায় বিনিয়োগ করতে চান, যেখানে তাদের বিনিয়োগ নিরাপদ এবং বিনিয়োগের ওপর প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া সম্ভব।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাও আতিথেয়তা খাতের বিনিয়োগে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি।

তিন বিষয়ে জোর

বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের বিকাশে তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মো. আল আমিন।

প্রথমত, সরকারের বিশেষ মনোযোগ। তার মতে, এই শিল্পের মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, দক্ষতা উন্নয়ন। শিল্প বাড়লে সেই প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগানোর মতো দক্ষ জনবল ও সহায়ক খাত প্রস্তুত আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি হোটেল পরিচালনায় ২০০ জন কর্মী প্রয়োজন হলে, সেই ২০০ জন দক্ষ কর্মী পাওয়া যাবে কিনা, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

তৃতীয়ত, খাদ্য ও পানীয় খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

"আমাদের গ্রাহকসেবা খুব ভালো। আমার মনে হয়, এশিয়ার অধিকাংশ দেশের মতোই আমাদের সেবার মান ভালো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উত্তর আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলোর চেয়েও আমরা ভালো সেবা দিতে পারি। কিন্তু খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে আমরা সম্ভবত যথেষ্ট গুরুত্ব দিইনি,” বলেন মো. আল আমিন।

এ ক্ষেত্রে বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি শেফদের গবেষণায় যুক্ত করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে

আতিথেয়তা খাতে নতুন প্রজন্মের দক্ষতা তৈরিতে ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলের এ মহাব্যবস্থাপক।

তার মতে, শুধু একাডেমিক শিক্ষা দিয়ে এ খাতের জন্য প্রস্তুত হওয়া যায় না। বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়।

নতুন প্রজন্ম দ্রুত সাফল্য চায়। কিন্তু আতিথেয়তা খাতে ধীরে ধীরে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

“আতিথেয়তা শুধু একাডেমিক বিষয় নয়। বই থেকে অবশ্যই শেখা যায়। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যখন প্রথম দিন হোটেলে কাজ করতে আসেন, তখন তিনি নিজেকে অনেক ক্ষেত্রে কম দক্ষ মনে করতে পারে। এতে তিনি দ্রুত হতাশ ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়তে পারেন। আমরা এ ব্যবধান দূর করার চেষ্টা করি। বাস্তবতা যে কিছুটা ভিন্ন, সেটি আমরা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করি।”

ম্যারিয়ট বিজনেস কাউন্সিলের বাংলাদেশ চেয়ারম্যান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শদানের একটি কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত থাকার কথা জানান তিনি।

বর্তমানে দেশের তিনটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের ছয় মাসের জন্য ম্যারিয়টের নেতৃত্ব দলের সঙ্গে যুক্ত করে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হোটেল চালুর অভিজ্ঞতা

শেরাটন ঢাকাসহ হোটেল চালুর প্রস্তুতি পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মো. আল আমিন।

“আমি দুটি হোটেল চালুর প্রস্তুতি পর্যায়ে কাজ করেছি। একটি ছিল শেরাটন। এর আগে উত্তরায় ‘হানসা’ নামে একটি স্থানীয় বুটিক হোটেল ছিল। সেটিও একটি চমৎকার প্রকল্প ছিল।”

তার মতে, একটি হোটেল চালুর সময় মানবসম্পদ নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের প্রক্রিয়া তৈরি, রেস্তোরাঁর মেনু তৈরি এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রক্রিয়ায় ভুল থেকে শেখার সুযোগ থাকে বলেও জানান তিনি।

"একটি হোটেল চালুর প্রস্তুতি পর্যায়ে আপনি প্রক্রিয়া শেখেন। দলগত কাজ শেখেন। কৌশলগত ব্যবস্থাপনা শেখেন।”

ঢাকার সঙ্গে অতিথিদের পরিচয়

আন্তর্জাতিক অতিথিদের ঢাকার স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে রেনেসাঁয় ‘ন্যাভিগেটর’ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুরান ঢাকা, স্থানীয় খাবার এবং হোটেলের আশপাশের বিভিন্ন জায়গার সঙ্গে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

বিশেষ করে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও খাবারের বৈচিত্র্য আন্তর্জাতিক অতিথিদের আকর্ষণ করে বলে জানান তিনি।

বুড়িগঙ্গার পাশের এলাকাও অনেক অতিথির পছন্দ বলে তুলে ধরেন তিনি।

তবে আতিথেয়তা খাতের বিকাশে সবচেয়ে আগে কী পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেই প্রশ্নে সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সঠিক দল গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

তার ভাষায়, "আমাদের শিল্পের ক্ষেত্রে আমি বলব, সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সঠিক দল তৈরি করা দরকার। এটি আগে করতে পারলে বাকি সবকিছু ধীরে ধীরে ঠিক জায়গায় চলে আসবে।”