অক্টোবরে রপ্তানি আয়ে ধাক্কা

জুলাইয়ের পর এই প্রথম মাসে বিদেশে পণ্য বিক্রি থেকে আয় ৪০০ কোটি ডলারের নিচে নেমেছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Nov 2023, 12:15 PM
Updated : 2 Nov 2023, 12:15 PM

চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে টানা প্রবৃদ্ধিতে থাকা রপ্তানি আয় অক্টোবরে এসে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে; আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় কমেছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

সদ্য সমাপ্ত মাসে মোট পণ্য রপ্তানি থেকে আয় গত চার মাসের মধ্যে প্রথম ৪০০ কোটির নিচে নেমেছে।

বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো-ইপিবির প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অক্টোবরে মোট ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে তা ৫৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। ২০২২ সালের অক্টোবরে ৪৩৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল।

গেল মাসে গত অর্থবছরের চেয়েও আরও বেশি পরিমাণে রপ্তানির লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। ওই মাসে ৫২৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা থেকে ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ পিছিয়ে আছে।

অক্টোবরে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের মোট রপ্তানিও পিছিয়ে গেছে।

তবে আগের তিন মাসে ভালো প্রবৃদ্ধির কারণে এখনও তা ইতিবাচক আছে। জুলাই থেকে অক্টোবরে মোট ১ হাজার ৭৪৪ কোটি ৭৪ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে; প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। সেপ্টেম্বর শেষে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির এ হার ছিল ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রতি মাসেই ৪০০ কোটির বেশি রপ্তানি আয় এসেছে। এর মধ্যে অগাস্টে এসেছিল সবচেয়ে বেশি ৪৭৮ কোটি ডলার। জুলাইয়ে যা ছিল ৪৫৯ কোটি এবং সেপ্টেম্বরে ৪৩১ কোটি ডলার।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাপক ওঠানামা করার পর পণ্য রপ্তানি থেকে আয় এসেছিল ৫ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৬২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও অক্টোবরের রপ্তানি আয় বেশ পিছিয়ে গেছে।

চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর শেষে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আয়ে ১৩ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকলেও অক্টোবর শেষে তা ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশে নেমেছে।

অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮৬৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের; প্রবৃদ্ধি রয়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬১০ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের, পিছিয়ে গেছে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।