আমদানির আলু দেশের বন্দরে
“কেউ রপ্তানি করতে চাইলে রপ্তানি করবে, পাশাপাশি আমদানি সুযোগও উন্মুক্ত থাকবে,” বলছেন কৃষি সচিব।
দামে লাগাম টানতে আলু আমদানির যে অনুমতি দিয়েছে সরকার, সেই আলু দেশে আসতে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার ৭৭ টন আলু দেশে প্রবেশ করেছে বলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তরফে জানানো হয়েছে।
এ দিন দুই ট্রাক আলু নিয়ে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোর ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি কোম্পানি। আমদানি খরচ কত পড়েছে, সে বিষয়ে তথ্য দিতে চায়নি এ কোম্পানি।
গোর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন বলেন, “আমাদের দুই ট্রাক আলু সোনা মসজিদ বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এখন কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই আলু আমরা বুঝে নেব।”
কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে তিন দিনে এক লাখ সাত হাজার টন আলু আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আমদানির অনুমোদন পাওয়া আরহাম নিটেক্সের ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “আমরা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। আমদানিতে ৩৩ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। আমরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমদানি শুরু করবে।”
ঢাকার বাজারে প্রতিকেজি আলু এখন ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর পাশের দেশ ভারতে এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ রুপিতে।
অথচ চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ১৩ হাজার টন আলু রপ্তানি করেছিলেন। বার্ষিক প্রায় ৮০ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে গেল মৌসুমে এক কোটি ১১ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল বলে কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এর আগে ২০২০-২১ সালে ৬৮ হাজার ৭৭৩ টন, ২০২১-২২ সালে ৭৮ হাজার ৯১০ টন আলু রপ্তানি হয়েছিল।
জানতে চাইলে কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সম্প্রতি দেশের বাজারে আলুর দামটা বেশ বেড়ে গেছে।
“মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় আলু আমদানির আনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেউ রপ্তানি করতে চাইলে রপ্তানি করবে, পাশাপাশি আমদানি সুযোগও উন্মুক্ত থাকবে।”
