১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

টুথপিকের চালানে এল ‘অ্যান্টি-এজিং’ জেল, যৌন উত্তেজক স্প্রে

চট্টগ্রাম বন্দরে জালিয়াতির মাধ্যমে আনা এসব পণ্যের চালান আটকে দেওয়ার কথা জানিয়েছে এনবিআর।

টুথপিকের চালানে এল ‘অ্যান্টি-এজিং’ জেল, যৌন উত্তেজক স্প্রে

চট্টগ্রাম বন্দরে জালিয়াতির মাধ্যমে আনা পণ্যের চালান আটকে দিয়েছে এনবিআর।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 07:33 PM

Updated : 17 Oct 2026, 07:33 PM

কাগজে-কলমে কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন, টুথপিক, প্রিন্টিংয়ের হিট ট্রান্সফার পেপার ও কারখানার সাধারণ স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল আমদানির কথা থাকলেও কন্টেইনার খুলে মিলল প্রসাধনী, ফেস মাস্ক ও অ্যান্টি-এজিং জেল ও যৌন উত্তেজক স্প্রের মতো উচ্চ শুল্কের পণ্য।

সেইসঙ্গে গাড়ির দামি ইঞ্জিন পার্টস, বিয়ারিং ও নাট-বল্টুও মিলেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে জালিয়াতির মাধ্যমে আনা এসব পণ্যের চালান আটকে দেওয়ার কথা শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) ও কাস্টমস হাউস কন্টেইনারগুলোর সিল কেটে কায়িক পরীক্ষা করলে জালিয়াতির প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে এনবিআর।

ঢাকার নিউ মার্কেটের 'ফরচুন গ্লোবাল ট্রেডিং' চীন থেকে কৃষি খাতের ১১ হাজার ৯৫৬ কেজি 'পাওয়ার স্প্রেয়ার মেশিন' আমদানির ঘোষণা দেয়। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, মেশিনের বদলে কনটেইনার জুড়ে রয়েছে ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, টুথপেস্ট, পিলিং জেল, সিরাম, বিভিন্ন ধরনের এলইডি লাইট, সানগ্লাস এবং ব্ল্যাক হেয়ার শ্যাম্পু।

ঘোষিত ওজনের চেয়ে প্রায় ১ হাজার ৮১৭ কেজি পণ্য বেশি আনা হয়, যার পুরোটাই সম্পূর্ণ ঘোষণা বহির্ভূতভাবে এনে বড় ধরনের শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে এনবিআর জানিয়েছে।

আরেকটি চালানে পুরান ঢাকার চকবাজারের কাফ করপোরেশন চীন থেকে সাড়ে ২২ টন সাধারণ 'টুথপিক' আনার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬২০ কেজি টুথপিক। বাকি ১৫ দশমিক ৭ টনের জায়গায় ছিল ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত ও বিএসটিআই নিষিদ্ধ পাকিস্তানের 'গোরি বিউটি ক্রিম', ফেস ক্রিম, সান ক্রিম, অ্যান্টি-এজিং জেল, হেয়ার রিমুভার স্প্রে, প্রিমিয়াম সানগ্লাস এবং যৌন উত্তেজক স্প্রে।

ঢাকার এইচ আর এন্টারপ্রাইজ থাইল্যান্ড থেকে ১৬ হাজার ৪০ কেজি কম শুল্কের 'ইঞ্জিন রবার বুশ' আমদানির ঘোষণা দিয়ে জালিয়াতি করে। কায়িক পরীক্ষায় প্রকৃত রবার বুশ মিলেছে ৬ হাজার ৬২৫ কেজি। বাকি প্রায় ১৩ হাজার কেজির পুরোটাই ছিল অরিজিনাল ইঞ্জিন মাউন্টিং, সাসপেনশন বুশ, আর্ম বুশ, সেন্টার বিয়ারিং, স্প্রিং শ্যাকল ও স্টিয়ারিংয়ের মতো দামি মোটর যন্ত্রাংশ।

নিউ ট্রাস্ট ট্রেডার্স নামে আরেকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চীন থেকে ২৩ হাজার ৬১৮ কেজি 'হিট ট্রান্সফার পেপার' আমদানির ঘোষণা দিয়ে কন্টেইনার নিয়ে আসে। তবে কায়িক পরীক্ষায় ৩ হাজার ১৬০ কেজি পেপার পাওয়া যায়। কন্টেইনারের বাকি প্রায় ২১ হাজার ৪৬৭ কেজি জুড়েই ছিল ঘোষণা বহির্ভূত উচ্চ শুল্কের 'পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার'।

অপর চালানে বংশালের নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ এবং ওয়ারীর মোহাম্মাদীয়া ট্রেড নামে দুটি প্রতিষ্ঠান একই কায়দায় জালিয়াতি করে।

মোহাম্মাদীয়া ট্রেড ২২ টন স্টেইনলেস স্টিল সার্কেল ও এক্সক্যাভেটর গিয়ারের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পাওয়া যায় ৩ দশমিক ৮ টন। প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা বহির্ভূতভাবে ২২ টনের বেশি উচ্চ শুল্কের নাট, বল্টু ও স্ক্রু নিয়ে আসে।

নিউ রনি এন্টারপ্রাইজ একই কায়দায় আমদানি করে ১৭ হাজার ৫৯২ কেজি নাট-বল্টু, ২ হাজার ৭৮৭ কেজি ভারী রোলিং বিয়ারিং এবং ২ হাজার ৩৩৬ কেজি রিভলভিং চেয়ারের গ্যাস লিফ্ট সিলিন্ডার।