নিত্যপণ্যের শুল্ক কমাতে কাজ করছে এনবিআর: চেয়ারম্যান

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুরের আমদানি শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Jan 2024, 05:57 PM
Updated : 25 Jan 2024, 05:57 PM

রোজার মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকাজ করছে বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মু. রহমাতুল মুনিম।

কাস্টমস দিবস সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।  

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভোজ্য তেল, চিনি ও খেজুরের আমদানি শুল্ক কমানোর যে প্রস্তাব এনবিআরে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।

উত্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কয়েকটি নিত্য পণ্যের দাম কমানোর সেই প্রস্তাব পেয়েছি। এনবিআর এ নিয়ে কাজ করছে।"

তবে কোন পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক ছাড় দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি এনবিআর চেয়ারম্যান।

ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের (ডাব্লিউসিও) সদস্য হিসেবে বিশ্বের ১৮৫টি দেশের সাথে বাংলাদেশও শুক্রবার কাস্টমস দিবস পালন করবে বলে জানান মুনিম।

দেশের কাস্টমস খাতকে ঢেলে সাজানোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশসমূহসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সীমান্ত সংস্থার মধ্যে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস ও স্বচ্ছতা সৃষ্টিপূর্বক আন্তর্জাতিক বৈধ বাণিজ্যকে নিরাপদ এবং বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা বাংলাদেশ কাস্টমস এর অন্যতম মূল লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, বর্তমানে সকল কাস্টম হাউস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থল কাস্টমস স্টেশনে ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল কাস্টমস ‘নিশ্চিত করা হয়েছে’, যা পণ্য শুল্কায়ন ও খালাসে গতি এনেছে। টেকসই বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ই-পেমেন্ট কার্যক্রম বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে।

আঞ্চলিক বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্প্রতি ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করেছে, সে কথাও এনবিআার চেয়ারম্যান বলেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমদানি রপ্তানির গতি বাড়ানোর জন্য আমরা ইতোমধ্যে ১৬টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) এর অনুমোদন দিতে পেরেছি।”

তিনি বলেন, “এটাতে দীর্ঘ যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন হয়। যাদের অতীত রেকর্ড ভালো, যাদের অটোমেশন সিস্টেম আমাদের অ্যাস্যাইকুডার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং যাদের পূর্বের কোনো জালিয়াতির রেকর্ড নাই, তাদেরকে যাচাই করে অনুমোদন দেওয়া হয়।

“এজন্য আমরা ধীরে চল নীতি অবলম্বন করেছি এবং আগামীতে এই কার্যক্রমটা আরও গতি পাবে “

অন্যদের মধ্যে এনবিআর সদস্য মো. মাসুদ সাদিক, জাকিয়া সুলতানা এবং সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।