০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

এলডিসি উত্তরণের পর পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি: বাণিজ্যমন্ত্রী

“নিউ জিল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ‘সম্ভাবনাময় খাতসমূহে’ বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারেন,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 May 2026, 06:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:38 PM

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পর তৈরি পোশাক খাতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখাটা জরুরি বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার সচিবালয়ে নিউ জিল্যান্ডের অনাবাসিক হাই কমিশনার ডেভিড পাইনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “দেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। ফলে এই খাতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে নিউ জিল্যান্ড।

বৈঠকে দুইদেশের বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে বিদ্যমান আঞ্চলিক কাঠামোর কার্যকর ব্যবহার, পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে সফল করতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অপরিহার্য।”

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যবসা বাণিজ্য সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নিউ জিল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা ‘সম্ভাবনাময় খাতসমূহে’ বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিলে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময় বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬’র সাধারণ বিতর্কে তিনি এ দাবি জানান।

তবে সময় বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দিন ঠিক করা আছে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর।

বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পায়। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা আর থাকবে না।

বাণিজ্যমন্ত্রী এদিনের বৈঠকে এলডিসি থেকে উত্তরণ না হলেও ‘টেকসই অর্থনৈতিক’ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে প্রতিবছর ‘ব্যাপক বিনিয়োগের’ প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

ডেভিড পাইন বলেন, “বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর যাতে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে নিউজিল্যান্ড বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”