Published : 21 May 2026, 08:59 AM
এবারের কোরবানির ঈদে চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন চট্টগ্রামের কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা।
তারা বলছেন, গেল বছর তারা সাড়ে তিন লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এবার চার লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির হিসাবে, গত বছর চামড়া সংগ্রহ হয়েছিল তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির মত। যার মধ্যে তিন লাখের বেশি ছিল গরুর চামড়া।
বাংলাদেশে পশুর চামড়ার যে চাহিদা, তার ৮০-৯০ শতাংশই পূরণ হয় কোরবানির ঈদে জবাই করা পশু থেকে। ফলে এটাই চামড়া সংগ্রহের মৌসুম।
আগামী ২৮ মে কোরবানির ঈদ হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী, তার পরের দুই দিনও পশু কোরবানি চলবে। ওই সময় মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা পাড়া-মহল্লা থেকে কাঁচা চামড়া কিনে বা সংগ্রহ করে তা বিক্রি করবেন আড়তে। আড়তদাররা সেই চামড়া কিছুটা প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করে ট্যানারিগুলোর কাছে বিক্রি করবেন।
ঈদ সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার; এবার গরুর চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে ২ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
ঢাকায় ট্যানারি ব্যবসায়ীদের এবার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া (লবণযুক্ত) কিনতে হবে ৬২ থেকে ৬৭টাকায়। ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম হবে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।
এছাড়া সারা দেশে প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত খাসির চামড়া ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে কিনবে ট্যানারিগুলো।
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. মুসলিম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারের বেঁধে দেয়া দামটি সংরক্ষণের পরের দাম, যা অনেক কোরবানিদাতা কিংবা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বোঝেন না। তারা মনে করেন, আড়তদাররা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনবেন।”
চট্টগ্রামের আড়তদারদের সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া চট্টগ্রামের একটি ট্যানারি সংগ্রহ করে। বাকিগুলো ঢাকা এবং অন্যান্য জেলার ট্যানারিগুলোতে কাছে বিক্রি করতে হয়।
আড়তদারদের দাবি, প্রতিটি চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ী কিংবা ফড়িয়াদের কাছ থেকে কেনার পর তা সংরক্ষণের জন্য প্রায় ২৬০ টাকা খরচ হয়। আবার গাড়ি ভাড়া, চামড়া উঠানো নামানোসহ সব মিলিয়ে একটি চামড়া চট্টগ্রামে বিক্রি করতে হলে খরচ হয় অতিরিক্ত আরও ১১০ থেকে ১২০ টাকা।
সেই হিসেবে সংগ্রহ করা চামড়া চট্টগ্রামের ট্যানারিতে বিক্রি করতে গেলে খরচ পড়ে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা। আবার ঢাকায় বিক্রি করতে গেলে তা আরও ১০০ টাকা খরচ বেড়ে হয় ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা।
লবণের দাম নিয়ে অভিযোগ
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদারদের ভাষ্য, ৮-১০টি চামড়া সংরক্ষণের জন্য এক বস্তা (৭৪ কেজি) লবণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রতিবছর কোরবানির ঈদের মাস খানেক আগে থেকে বাজারে লবণের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
রোজার মাসে প্রতি বস্তা লবণের দাম ৫৮০ টাকা থাকলেও কোরবানির আগে তা বেড়ে ৯৫০ টাকা হয়েছে বলে আড়তদারদের অভিযোগ।
মুসলিম উদ্দিন বলেন, “গতবছর লবণের দাম কিছুটা কম থাকলেও এবার তা হঠাৎ করে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মাসখানেকের মধ্যে বস্তাপ্রতি ৩৭০ টাকা করে বেড়ে গেছে দাম। বিষয়টি আমরা জেলা প্রশাসক ও মেয়রকে জানিয়েছি।”
রাতে আড়তে চামড়া না নেওয়ার অনুরোধ সমিতির
২০১৯ সালের মত গত বছরও অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করতে না পরে সড়কে চামড়া ফেলে যান। আড়তদাররা ‘সিন্ডিকেট’ করে চামড়ার দাম কমিয়ে ধরছেন বলে তারা অভিযোগ তোলেন।
তবে আড়তদার সমিতির সভাপতির বক্তব্য ভিন্ন। তার দাবি মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণেই সঙ্কট তৈরি হয়।
“অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী সন্ধ্যায় চামড়া বিক্রি করে পুনরায় চামড়া সংগ্রহ করছেন। সেগুলো গভীর রাতে নিয়ে আসা হয়েছিল আড়তে। আমাদেরও একটি সক্ষমতা আছে। চামড়া সংগ্রহের পর লবণ এবং শ্রমিকদের একটি বিষয় আছে। সকাল থেকে শ্রমিকরা কাজ শুরু করে, অনেক শ্রমিক গভীর রাতে আর কাজ করেনি।
“গভীর রাতে চামড়া আড়তে আনার কারণে অনেকেই কিনতে পারেনি, কারণ সেসময় লবণ ও শ্রমিক স্বল্পতা ছিল।”
আড়তদার নেতা মুসলিম বলেন, “এখন বেশ গরম। আমাদের অনুরোধ থাকবে, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহের পর যেন তা রোদে এবং গাড়িতে স্তূপ করে না রেখে ছায়াযুক্ত স্থানে পারলে লবণ দিয়ে রাখেন। গভীর রাতে আড়তে চামড়া না এনে যেন সকালে নিয়ে আসেন।”
পুরানো খবর