Published : 30 Jan 2024, 09:50 PM
পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ-এর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি তুলেছে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট ফোরাম প্যানেল।
তালিকায় ‘কয়েকশ ভুয়া ভোটার’ যুক্ত করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ফোরামের দলনেতা ফয়সাল সামাদ বলেছেন, ভুয়া ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে তারা সবরকম আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
তবে এ ধরনের অভিযোগকে ‘দুঃখজনক’ এবং শিল্পমালিকদের ‘সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা’ আখ্যা দিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল সম্মিলিত পরিষদের দলনেতা এসএম মান্নান কচি।
এ নির্বাচনে বরাবরের মতই ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ভোটাররা নতুন পরিচালনা পর্ষদের জন্য ৩৫ জন পরিচালক নির্বাচিত করবেন। তাদের মধ্য থেকে সংগঠনের সভাপতি ও অন্যান্য অফিস বেয়ারার ঠিক করা হবে।
গত ১৯ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএর দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের (২০২৪-২০২৫) আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, মোট ভোটার সংখ্যা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৬ জন।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখের মধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ঠিক করা হয়েছে।
বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি ফারুক হাসান সম্মিলিত পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছেন। তার আগে সভাপতি ছিলেন ফোরাম প্যানেলের প্রতিনিধি রুবানা হক। গত কয়েক দশকে এ দুটি প্যানেলই সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।
ফোরামের দলনেতা ও সুরমা গার্মেন্টেসের পরিচালক ফয়সাল সামাদ মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি অভিযোগ করেন, কোভিড, রাশিয়া ইউক্রেইন যুদ্ধসহ নানা কারণে গত দুই-তিন বছরে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এরই মধ্যে আরও চার শতাধিক ব্যক্তিকে বিজিএমইএর সদস্য করা হয়েছে।
“আমরা মনে করি নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বর্তমান পর্ষদ নিজেদের লোকদের বেআইনিভাবে এখানে সদস্য করেছে। এভাবে চললে তো নির্বাচনে প্রকৃত শিল্প মালিকদের মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না। এত বিপুল সংখ্যক ভুয়া ভোটার থাকলে সেখানে সঠিক নির্বাচন কীভাবে সম্ভব “
ফয়সাল সামাদ বলেন, “যাদের ভোটার হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে তাদের অনেকের টিআইএন নাম্বারও ঠিক নেই বলে আমরা দেখতে পেলাম। তাহলে এসবের উদ্দেশ্য কী? আমরা চার শতাধিক ভোটারের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি দেখে অভিযোগ করেছিলাম। সেখানে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মাত্র ৬৭ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই ৬৭ জন কীভাবে ভোটার হলেন। তাদের বাদ যাওয়া থেকেই প্রমাণ হয়, এখানে অনেক ভুয়া ভোটার যুক্ত করা হয়েছিল।”
এ পরিস্থিতিতে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যথারীতি আপিল করে ন্যায়বিচার চাইব। ন্যায় বিচারের জন্য যা যা করা দরকার তা অবশ্যই আমরা করবে।”
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি ফারুক হাসানকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি।
তবে সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার ও বর্তমান পর্ষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম মান্নান (কচি) বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা অতীতেও অনেকবার ভোট দিয়েছেন। নতুন করে ১০০ এর কিছু বেশি ভোটার হয়েছে। তারা নিয়মিত চাঁদা দিয়ে সদস্যপদ ধরে রেখেছেন। তারপরেও এ নিয়ে প্রচার করার উদ্দেশ্য বুঝতে পারছি না।
“উনারা যে তালিকা নিয়ে অভিযোগ চালাচ্ছেন, সেখানে অনেক বড় বড় ব্যবসায়ীর নামও দেখলাম। কিছু আপত্তি থাকতেই পারে। সেটা যথাযত প্রক্রিয়ায় সমাধানও হবে। কিন্তু এভাবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরার কারণ আমি জানি না। যারা এই খাতের জন্য অবদান রেখেছেন তাদের অসম্মান করা হচ্ছে।”
জানতে চাইলে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলামিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিজিএমএ এর সদস্যদের মধ্য থেকে চাঁদাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া পূরণ করে প্রাথমিক ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
“সে কারণে এই ভোটার তালিকায় আমাদের কোনো হাত নেই। যদি কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে আপত্তি থেকে থাকে সেটা হবে তার বিজিএমইএর সদস্য হওয়ার বিষয়ে। আর সদস্য তো আমরা বানাইনি। সেটা করেছে বিজিএমইএ। সেখানো কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে সেটার দায় বোর্ডের নয়।”
গত ১৮ জানুয়ারি আসন্ন নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড। সেখানে ঢাকা অঞ্চলে ২০৫১ জন ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৫১২ জন ভোটার তালিকায় স্থান পায়। মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৬৩ জন।
৩০ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ঢাকা অঞ্চলে ২ হাজার ৩২ জন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪৬৪ জন ভোটারের নাম দেখা যায়। অর্থাৎ চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গেছে মোট ৬৭ জন (ঢাকায় ১৯ ও চট্টগ্রামে ৪৮ জন)।
নির্বাচনী আপিল বোর্ডের সদস্য খায়রুল হুদা চপল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের কাছে মোট ৪২০ জনের ভোটার হওয়া নিয়ে বিভিন্ন আপত্তি এসেছিল। আমরা যাচাই বাছাই করে ৬৭ জনের বিষয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখতে পাওয়ায় তাদেরকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ রেখেছি। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।”