Published : 16 Jun 2023, 12:38 AM
বাংলাদেশের পোশাক খাতে সার্কুলারিটি বা চক্রায়নকে প্রবৃদ্ধির পরবর্তী কৌশল হিসাবে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই খাতের অংশীজনরা।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় ‘বাংলাদেশ সার্কুলার ইকোনমি সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনের বক্তব্যে এই পরামর্শ আসে।
ঢাকায় নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যান ভ্যান লিউয়েন বলেন, “বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডেসের মধ্যে অনেক কিছুই মিল আছে। এর একটি হচ্ছে উভয় দেশই বিগ ডেলটা বা বদ্বীপ অঞ্চল এবং সেই কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির শিকার।
“বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতির সূচকগুলোতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই দেশের সার্কুলার অর্থনীতির ধারণা বাস্তবায়নেও মুখ্য ভূমিকা পালন করার সুযোগ রয়েছে।”
এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবলিটি লাইলা আরচুর বলেন, “এখন আমরা জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের হুমকির মতো বৈশ্বিক যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হয়েছে তা প্রতিরোধ করার জন্য পোশাক শিল্পে সার্কুলারিটির ধারণা বাস্তবায়ন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
“সার্কুলার ফ্যাশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে ক্রেতা ও শিল্পমালিকদের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন।”
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, “টেকসই পোশাক শিল্পের জন্য এখন প্রয়োজন রিডিউস, রিসাইকেল ও রিইউজের (দূষণ কমানো, পুনঃনির্মাণ ও পুনঃব্যবহার) ধারণাকে জোরদার করা।
“সার্কুলারিটি বা পোশাক তৈরিতে উপাদানগুলোর পুনঃব্যবহারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শগুলো আগামী দিনে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হতে যাচ্ছে। তাই আগামী দিনে সার্কুলার ফ্যাশনের ধারণা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা অগ্রাহ্য করতে পারবেন না।”
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, “প্রথাগত অর্থনীতিতে যেটা কিনা লিনিয়ার বা একক ব্যবহারের ধারণা নিয়ে চলছে, সেখানে আমরা তৈরি করছি, ব্যবহার করছে এবং দিনশেষে সেটা ফেলে দিচ্ছি। এটা এখন আর টেকসই বা সাসটেইনেবলের ধারণার সঙ্গে খাপ খায় না।
“তাই আমাদেরকে লিনিয়ার থেকে সার্কুলার অর্থনীতির দিকে যেতে হবে যাতে করে যথাসম্ভব সম্পদের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং পণ্যগুলো থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া যায়। এই দিক থেকে সার্কুলারিটির ধারণাটি ক্রেতা ও উৎপাদনকারীর জন্য সমভাবে লাভজনক হতে হবে।”

বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, “সার্কুলার ইকোনমি বা চক্রাকার অর্থনীতি হল প্রথাগত অর্থনীতির একটি বিকল্প। প্রথাগত অর্থনীতি চলে রৈখিকভাবে, যেখানে আপনি পণ্যদ্রব্য উৎপাদন করেন, ব্যবহার করেন এবং ফেলে দেন। অন্যদিকে সার্কুলার ইকোনমিতে আপনি সম্পদের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ব্যবহার করেন এবং ব্যবহৃত পণ্য থেকে সর্বোচ্চ মূল্য সমপরিমাণ ভোগ করেন।
“বাংলাদেশ সার্কুলার ইকোনমি সামিটের লক্ষ্য হল সমান্তরাল থেকে চক্রাকার ব্যবসায়িক মডেলে পরিবর্তিত হওয়ার সুযোগ অন্বেষণ করা এবং দেশে চক্রাকার অর্থনীতির বাস্তবায়ন ও উন্নয়নে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।"
প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের এ আয়োজনে সহযোগী হিসাবে ছিল লডস ফাউন্ডেশন, পিফোরজি, জিআইজেড, ঢাকায় নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ও এইচএন্ডএম গ্রুপ।
দিনব্যাপী সম্মেলনে মোট ৪টি আলোচনা সভা, ৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপনা, ৩টি বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা, একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব অধিবেশনে ’বাংলাদেশের অর্থনীতি-চক্রাকার অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রা’, 'সার্কুলার সিটিস', ’পোশাক ও বস্ত্র শিল্পে চক্রাকার অর্থনীতির গতি ত্বরান্বিত করণে নীতির ভূমিকা’, এবং ‘বাংলাদেশে পোস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসাইক্লিংয়ের এর ক্ষেত্রে অর্জিত শিক্ষা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ’ শিরোনামে আলোচনায় অংশ নেন অতিথিরা।
এছাড়া ‘সার্কুলার ইকোনমি সংক্রান্ত প্রচলিত ভুল ধারনা ও সঠিক ধারনা’, ‘বাংলাদেশে সার্কুলার ইকোনমি: চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা’এবং ‘বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের সার্কুলার বিজনেস মডেল এবং ডিজাইন’ শীর্ষক ৩টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।