২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সিন্ডিকেট আছে, সিন্ডিকেট ভাঙ্গব– এমন কিছু বলিনি: টিপু মুনশি

তিনি দাবি করেছেন, বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2023, 05:17 PM

Updated : 30 Aug 2023, 08:11 PM

প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর বাজারে সিন্ডিকেটের প্রতাপ নিয়ে সুর বদলালেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। 

অবশ্য তিনি দাবি করেছেন, বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কোনো কথা হয়নি। আর প্রধানমন্ত্রী কেন বাণিজ্যমন্ত্রীকে ‘ধরার’ কথা বলেছেন, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।

চিনি, তেল, পেঁয়াজ, ডিমের মত নিত্যপণ্য নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই নাকাল হতে হচ্ছে ভোক্তাদের। সরকারের কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রায়ই এক একটি পণ্যের দাম হু হু করে বাড়তে দেখা যায় যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়াই। 

গত ২৬ জুন এ নিয়ে একটি বক্তব্য দিয়ে জাতীয় সংসদে তোপের মুখে পড়েন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি তো বটেই, আওয়ামী লীগের শরিক দলের পক্ষ থেকেও তার পদত্যাগের দাবি ওঠে সে সময়। 

সেদিন বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “বাজারে সিন্ডিকেটের কথা বলা হয়। এটা ঠিক যে বড় বড় গ্রুপগুলো একসাথে অনেক বেশি ব্যবসা করে। আমাদের লক্ষ্য রাখা দরকার- আমরা জেলে ভরলাম, জরিমানা করলাম। সেটা হয়ত করা সম্ভব। কিন্তু তাতে হঠাৎ করে ক্রাইসিসটা তৈরি হবে, সেটা সইতে তো আমাদের কষ্ট হবে। এজন্য আমরা আলোচনার মাধ্যমে নিয়মের মধ্যে থেকে চেষ্টা করি।” 

পণ্যমূল্য আর সিন্ডিকেট নিয়ে মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে ফিরে আসে। 

প্রথানমন্ত্রী বলেন, ‘‘খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে আমরা সাথে সাথে তো ব্যবস্থা নিই। কাজেই সিন্ডিকেট থাকলে সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না… এটা তো কোনো কথা না। কে কত বড় সিন্ডিকেট আমি জানি না। তবে আমি দেখব কি ব্যবস্থা করা যায়।” 

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছিল, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য নিয়ে মৌসুমী ব্যবসা পরিচালিত হয়। মজুদ আছে, সরবরাহ আছে, তারপরও হঠাৎ করে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। পেঁয়াজ, ডাব, কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যায়। এরকম সিন্ডিকেট করে বাংলাদেশে ব্যবসা করে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। সিন্ডিকেটের একথা দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা বলেন যে, এটাতে হাত দেওয়া যায় না, দিতে গেলে বিপদ আছে। এ ব্যাপারে মৌসুমী ব্যবসা যারা করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবেন কি না?

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি, নিয়ে থাকি। কিন্তু বিপদ আছে- কে বলেছে, আমি ঠিক জানি না। কোন মন্ত্রী বলেছেন?”

তখন এ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর ‘সিন্ডিকেটে হাত দেওয়া যাবে না’ বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরা হলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি বিষয়টি দেখব। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির পেছনে এক শ্রেণির সিন্ডিকেট রয়েছে।”

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএস-বাংলা বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনা সভা শেষে ফের এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। 

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছে, আমি তো বলিনি কিছু। এখন এই ব্যাপারে আমি কি বলব? উনি কী মিন করে বলেছে, সেইসময় কি সিচুয়েশনে বলেছে, আমি ঠিক জানি না। সিন্ডিকেট আছে বা সিন্ডিকেট ভাঙ্গব, এই ধরনের কোনো কথা আমি বলিনি।

"আমি বলেছি যে মাঝে মধ্যে বাজারে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? আমরা ভোক্তা অধিকার দিয়ে চেষ্টা করি যেন ন্যায্য দামে বিক্রি হয়। কিন্তু কখনো কখনো আমাদের লোকবল কম হওয়ার কারণে কিছুটা শ্লথ হয়... এ কথাটাই বলেছি। আমি জানি না কালকে প্রশ্ন কী ছিল, আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কী মিন করে বলেছেন।"

মন্ত্রী বলেন, "মিটিং এর পরে তো আমি দেড় ঘণ্টা তার সাথেই ছিলাম। আমার সাথে কোনো কথা হয় নাই। আপনাদের মুখে শুনলাম, কাগজে কোথাও কোথাও দেখলাম যে উনি এই কথাটা বলেছেন।"

নিত্যপণ্যের বাজার গুটিকয়েক কোম্পানির হাতে বন্দি। সেক্ষেত্রে এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমি বলেছিলাম, জেল-জুলুম, এই ধরনের ব্যবস্থা নিলে ওরা যদি সব বন্ধ করে দেয়, তাহলে মানুষের সাফারিংসটা বাড়বে।

"আমরা আলোচনার মাধ্যমে সেটেল করতে চাই। আলোচনা করে আমরা অলটারনেটিভ পথ বের করে ব্যবস্থা নিতে চাই। সে কথাটাই বলেছিলাম। যেমন, ডিমের দাম যখন বেড়ে গেল, আমি বলেছিলাম যে সাপ্লাই ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজনে আমরা ইমপোর্ট করব। সেই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাই বলেছি।"

পুরনো খবর:

বিকল্প ব্যবস্থা হবে, সিন্ডিকেট এমনি ভেঙে যাবে: প্রধানমন্ত্রী
‘সিন্ডিকেট ভাঙা অনেক কঠিন’, এবার বললেন কৃষিমন্ত্রী
দ্রব্যমূল্য: সংসদে তোপের মুখে বাণিজ্যমন্ত্রী

শ্রীলঙ্কা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে আছে– এমন প্রশ্ন রাখা হয় বাণিজ্যমন্ত্রীর সামনে।

জবাবে তিনি বলেন, "শ্রীলঙ্কা এবং আমাদের অবস্থাটা ভিন্ন। শ্রীলঙ্কার প্রধান আর্নিং সোর্স ট্যুরিজম। সেটা তারা রিভাইভ করেছে বলেই ইমপ্রুভ করে গেছে। পাশাপাশি ছোট দেশ। আমাদের তো বিশাল বড় একটা দেশ। তবে আমাদের চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, আমাদেরকে একটু কৃচ্ছ্রতাসাধন করতে হবে। ডিমের ব্যাপারে মৎস্য একটা দাম ফিক্সআপ করে দিয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, তারা যে দাম ঠিক করে দিয়েছে, সেটা যেন বাজারে প্রিভেইল করে।"

মূল্যস্ফীতির এই সমস্যা ‘বৈশ্বিক সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে টিপু মুনশি বলেন, "আমাদের চেষ্টা চলছে, বৈশ্বিক এই দুরবস্থার মাঝে যেন আমরা ঠিক থাকতে পারি। তবে ইন্ডিয়ার সাথে সব ব্যাপারে তুলনা করা সম্ভব নয়। আজকে ইন্ডিয়াতে চিনির দাম কম। কারণ তাদের টোটাল চিনির রিকোয়ারমেন্টস শেষ করে চিনি তাদের সারপ্লাস, তারা চিনি এক্সপোর্ট করে। কিন্তু আমাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ চিনি বাইরে থেকে আনতে হয়। ইন্ডিয়ার সবকিছু যে আমাদের সাথে তুলনা হবে, তা নয়।

“কখনো কখনো কোনো কোনো জিনিস একরকম হয়। পেঁয়াজের যখন দাম বেড়ে গেল, ইন্ডিয়াতে তখন রেশনিং চালু করেছিল। আমাদের এখানে কাঁচামরিচের দাম বড়ল, তখন ইন্ডিয়াতেও ৩৫০ রুপি।"

ইউএস-বাংলা বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আমরা আলোচনা করেছি, কথা বলেছি। তারা বাংলাদেশে ইনভেস্ট করতে আগ্রহী। তারপরও তারা কিছু প্রশ্ন তুলেছে, যেগুলা তারা সর্ট আউট করতে চায়। যেমন, ট্যাক্সের ব্যাপারটা। আমি বলেছি, নতুন ট্যারিফে ট্যাক্সের ব্যাপারটা ইম্প্রুভ করবে। তাছাড়া এটা ফিন্যান্স মিনিস্ট্রির ব্যাপার। তারা খুবই ইন্টারেস্টেড বাংলাদেশে ইনভেস্ট করার জন্য এবং বেশ কিছু নতুন নতুন কোম্পানি আসবে।"

"তারা বলেছে, আমরা বাংলাদেশে আসতে চাই। প্রধানমন্ত্রীও তাদেরকে রিকোয়েস্ট করেছে, আমাদের যে ১০০টা ইকনোমিক জোন আছে, সেখানেও তারা যেন আসে। তাহলে আমরা সবরকম সুবিধা দিতে পারব। গতকালকে তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেছে, আজ আমার সাথে বলল, কাল ফাইন্যান্স মিনিস্টারের সাথে বলবে।"