Published : 16 Mar 2026, 01:12 AM
পণ্য কেনার পর শপিং ব্যাগের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায়কে বেআইনি দাবি করে আড়ংকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিস দিয়েছেন।
নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে জনস্বার্থে হাই কোর্টে রিট আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং আড়ংকে এ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে অভি বলেন, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কেনাকাটার পর বিনামূল্যে শপিং ব্যাগ না দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে আড়ং, যা আইনের পরিপন্থি। দেশের অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রম না করলেও গত কয়েক মাস ধরে আড়ংয়ের বিভিন্ন শোরুমে পণ্য কেনার পর ব্যাগের জন্য বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আলোকে নোটিসে বলা হয়, আড়ং ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণামূলক বা অন্যায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম করে যাচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে দণ্ডনীয়। ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সেখানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।
আড়ং সাংবিধান লঙ্ঘন করছে দাবি করে নোটিসে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন এবং অন্যায় ব্যবসায়িক আচরণ এই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আড়ং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে না। শপিং ব্যাগের জন্য অর্থ নেওয়া এবং ক্রেতাদের হাতে করে কাপড় বহন করতে বাধ্য করা ভোক্তা অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ক্রেতাদের নিরাপদ ও সুবিধাজনক সেবা নিশ্চিত না করা এক প্রকার অন্যায় ব্যবসায়িক আচরণ।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করছে না বলে নোটিসে অভিযোগ করা হয়।
নোটিসে বলা হয়, অযৌক্তিক আর্থিক চাপের কারণে মানুষ প্রতিবাদ হিসেবে শপিং ব্যাগের পরিবর্তে হাতে করে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন, যা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। আড়ংয়ের এই কাজ ভোক্তাদের আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতার মান লঙ্ঘন করছে।