Published : 09 Feb 2026, 09:40 PM
সরকারের সঙ্গে ‘সমন্বয় না হওয়ায়’ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জন করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
তার মতে, লক্ষ্য অর্জন করতে হলে মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্ব নীতির সমন্বয় হওয়াটা জরুরি।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানুয়ারি-জুন সময়ের মুদ্রানীতি ঘোষণার পর এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন গভর্নর।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল মাথায় রেখে আগের ধারা অনুসরণ করে এবারও বছরের প্রথম ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে নীতিসুদ হার আগের মতো ১০ শতাংশে রাখা হয়েছে।
দেশে সবশেষ তিন মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রভাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও রোজার কারণে মার্চ মাসেও মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা।
এমন প্রেক্ষাপটে নতুন মুদ্রানীতি সফল হবে কিনা জানতে চাইলে গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মুদ্রানীতির শুধু মূল্যস্ফীতি ছাড়া বাকিগুলো কিন্তু অর্জন হয়েছে।
‘‘মূল্যস্ফীতি ছাড়া বাকি সবগুলোতেই কিন্তু পারফরমেন্স, আমি বলব যে আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়েছে।”
আমলাতান্ত্রিকতার কারণে অনেক কিছু ‘ধীরে হয়’ মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, “এখানে মার্কেট পলিসির সঙ্গে রাজস্ব নীতির একটা সমন্বয় হতে হয়। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় না হওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না সেভাবে।’’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতিসুদ হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলে অর্থনীতির জন্য আরও সমস্যা তৈরি হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা পারি নীতিসুদ হার আরো বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার। তখন মূল্যস্ফীতি ঠিকই কমে যাবে। এটা আমরা পারছি না কারণ, অর্থনীতি চলে সার্বিক দিক বিবেচনা নিয়ে। তখন অর্থনীতির সবকিছুই উচ্চ দামের হয়ে যাবে।
‘‘এজন্য যতটা পারা যায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের রিজার্ভ বেড়েছে, অর্থনীতির পূর্বাভাস ইঙ্গিত দেয়, মূল্যস্ফীতি আরও কমবে।”
চাল, পেঁয়াজ, মরিচসহ নিত্যপণ্যের বার্ষিক চাহিদা অনুযায়ী আমদানির সুযোগ খোলা রাখার পরামর্শ দিয়ে গভর্নর বলেন, ‘‘আমদানি কেন নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী করবে। সবাই করুক, চাহিদা অনুযায়ী আমদানি হবে। এখন পেঁয়াজ লাগে লাখ লাখ টন, আর আমদানির অনুমতি দেয় হলো দেড় হাজার টন।
‘‘এটা পুকুরে এক ফোটা পানি দেওয়ার মতো। এভাবে তো দাম কমানো যায় না।’’
কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এসব বিষয়ে সমন্বয়ের পরামর্শ দেন তিনি।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গত ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রাক্কলন ধরা হয় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।
ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বিষয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘‘আমাদের ক্রেডিট (ঋণ) তো বেড়েছে। সমস্যাটা হচ্ছে সরকার একটু বেশি নিয়েছে।
‘‘বেসরকারি খাতে আমরা করপোরেটদের বড় ঋণ দেইনি। এটাও একটা কারণ, তারা নিলে তো প্রবৃদ্ধি আরও বেশি হতো। এখন ভালো ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যাংকগুলোর অ্যাসেট কোয়ালিটি (ঋণমান) ভালো হবে।”
‘বড় ঋণের জামানত যাচাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক’
সবশেষ খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশে উঠেছে। এটি ব্যাংক খাতের জন্য বেশি মন্তব্য করে গভর্নর বলেন, ‘‘গত ডিসেম্বরে সেখান থেকে কমেছে। পুরো চিত্র পেলে আমরা জানাতে পারব কতটা কমল।’’
খেলাপি ঋণ ভবিষ্যতে আরও কমিয়ে আনতে বড় ঋণের জামানত কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদাভাবে যাচাই করবে জানিয়ে গভর্নর বলেন, ‘‘আমরা হাই ভ্যালু ঋণ, ৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণ হলে পুরোটা জামানত রাখতে বলব। ব্যবসায়ীরা জামানত হিসেবে যা দেবেন, তার তথ্য যাচাই করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
‘‘জমি তার নামে কিনা, সেটা ভূমি অফিসের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। অ্যাসেট ভ্যালু (সম্পদের দাম) কত দেখানো হলো, তাও যাচাই করা হবে। এতে ভালো ঋণ যাবে। এজন্য কিছু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন লাগবে, আমরা তা করছি।’
আরও পড়ুন
সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি