Published : 13 Mar 2026, 11:12 PM
পোশাক-আশাকের পর ঈদের কেনাকাটা সারতে এখন অনেকেই ভিড় করছেন চিনি-সেমাইয়ের দোকানে।
ঈদের খাবার তালিকায় থাকা এ মিষ্টান্ন বিক্রির প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজার ও সেগুনবাগিচা ঘুরে দেখা গেছে, বাহারি মোড়কে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্বাদের সেমাই।
কোম্পানি ভেদে প্রতিকেজি চিকন সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। লাচ্ছা সেমাইয়ের কেজি পড়ছে ২২৫ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
কাপ্তান বাজারের ‘আল্লাহর দান স্টোরে’ দরদাম করে সেমাই কিনছিলেন আব্দুছ সামাদ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘‘চিকন সেমাই লাগবেই। বাসায় এটাই বেশি পছন্দ করে।
‘‘শুকনা সেমাইয়ের সঙ্গে কয়েক প্রকার মশলা দিয়ে কমপক্ষে দুই রকমের আইটেম তৈরি হবে বাসায়। আর মেহমানদের জন্য লাচ্ছা সেমাই নেওয়া।’’
দোকানের মালিক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খোলা ও প্যাকেট— দুইটাই আছে। খোলা লাচ্ছা সেমাই ২০০-২২০ টাকা কেজি। ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি ছাড়াটাও আছে।”

বাজারে এখন নানা রঙের লাচ্ছা সেমাই মিলছে। ঘি ও ডালডা দিয়ে ভাজার কথা অনেক সেমাইয়ের মোড়কে লেখা থাকলেও ক্রেতারা সন্দিহান। দুইশ-আড়াইশ টাকায় এ ধরনের সেমাই পাওয়া সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন তাদের।
ঢাকার কয়েকটি ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাইয়ের মোড়ক ঘেঁটে দেখা যায়, বেশির ভাগ কোম্পানিই ১৮০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম ওজনের মোড়কে বিক্রি করছেন।
দাম পড়ছে কোম্পানিভেদে ৪৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে শুকনা সেমাইও মোড়কে বিক্রি করছে কোম্পানিগুলো।
সেক্ষেত্রে বাজারের খোলা সেমাই প্রতিকেজির দাম যেখানে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, সেখানে প্যাকেটজাত হলে দাম পড়ছে কয়েক গুণ।
ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় সেমাইয়ের দামে খুব একটা হেরফের হয়নি।
কাপ্তান বাজারের খান ব্রাদার্সের বিক্রেতা মোহাম্মদ রুবেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্যাকেট সেমাই অনেকে পছন্দ করেন। প্যাকেটে মেয়াদ বেশি থাকে; আর খোলা সেমাই বেশি দিন রাখা যায় না।
“নগদ আনি, নগদ বিক্রি করি, তাই খোলাটা টাটকা থাকে। খোলা সেমাইয়ের বিক্রিও বেশি।”
কাপ্তান বাজারের মুন্সিগঞ্জ স্টোরের বিক্রেতা মোহাম্মদ ইসমাইল সেমাইয়ের সঙ্গে মসলা ও বিভিন্ন প্রকার বাদাম বিক্রি করছেন। সেমাইয়ের স্বাদ বাড়াতে অনেকে কাজু বাদাম কেনেন।
এ বাজারে প্রতিকেজি কাজু বাদাম বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকায়, যা গত বছরের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি।

সেমাইয়ের সঙ্গে কিশমিশও কিনছেন কেউ কেউ। মানভেদে প্রতিকেজির দাম পড়ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা।
ছয় মাস আগেও ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া এলাচ এখন বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৭০০ টাকা কেজি। আর প্রতিকেজি চিনি ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন মোহাম্মদ ইসমাইল।
ফের চড়া ব্রয়লারের বাজার
ঈদের আগে ঢাকার বাজারগুলোতে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কোনো কোনো বাজারে কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা পর্যন্ত।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মোহসিন বলেন, এক কেজির আশপাশে ওজন হলে ব্রয়লারের দাম পড়ছে ২২০ টাকা। আর ‘সোনালী’ মুরগির কেজি উঠেছে ৩২০ টাকায়।

রোজার শুরুতে একবার ব্রয়লার মুরগির কেজি ২৩০ টাকায় উঠেছিল। মাঝে সেখান থেকে ২০০ টাকার নিচে নেমেছিল। কিন্তু এখন আবার ২০০ টাকা ছাড়াল।
এদিকে গরুর মাংসের কেজি আগের সপ্তাহের মতো ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যাত্রাবাড়ীতে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।
অন্যদিকে কাঁচাবাজারে সবজির দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। আগের দরে গোল বেগুন ৫০ টাকা কেজি, লম্বা বেগুন ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে ।
একইভাবে সিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা ও মুলা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মটরশুঁটি আগের মতো ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা ও করলা ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া এক কেজি আলু পড়ছে ২০ টাকা। কাঁচা মরিচের কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।