Published : 29 Aug 2025, 10:44 PM
ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোয় সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে; দু-একটিতে কমলেও তা ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় ফেরেনি।
সবচেয়ে বেশি চড়েছে শাক-সবজির দাম। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজিতে হাতই দেওয়া যাচ্ছে না। করলা বা বেগুনের মতো সবজি কিনতে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।
আগের সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি পাঁচ টাকা কমলেও তা স্থায়ী হয়নি। ডজনে পাঁচ টাকা কমলেও ডিমের বাজার চড়াই থেকে গেছে।
শুক্রবার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, শিয়া মসজিদ সংলগ্ন কাঁচাবাজার ও টাউনহল বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এসব বাজার সোনালী মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে, যা গেল সপ্তাহে বিক্রি হয় ৩৩০ টাকা পর্যন্ত। আর দেশি মুরগি আগের মতোই সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
লেয়ার মুরগির লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা।
কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়তি থাকা পেঁয়াজের দাম আরও কিছুটা বেড়েছে। গেল সপ্তাহে ৭৫ টাকায় মিললেও সেটি আবার ৮০ টাকা হয়েছে। যদিও বহুল ব্যবহৃত মশলা পণ্যটির দাম সপ্তাহ দুয়েক আগে ৯০ টাকাতেও ঠেকেছিল।
এদিন টাউনহল বাজার থেকে পেঁয়াজ কেনেন বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুর রহমান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “৮০ টাকার নিচে তো আজ পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। আগের সপ্তাহেও তো ৭৫ টাকা ছিল।
“বাজারের কখন কী হয়, কোনটার দাম কে বাড়ায়, কিছুই বোঝা যায় না। তাই কী করার, ৮০ টাকাতেই নিয়ে নিলাম।”
এদিন বাজারে দেশি আদার কেজি ছিল ২০০ টাকা। আর চায়না আদা বিক্রি হ ২২০ টাকা দরে।

৮০ টাকার নিচে সবজি নেই
এদিকে সবজির বাজারে দাম কমছে না। বরং আগের সপ্তাহের চেয়ে কিছু সবজির দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তাতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের সবজির বাজারে এসে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শাহিন হোসেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি শিয়া মসজিদ সংলগ্ন বাজারে সবজি কিনতে এসেছেন। ৫০০ গ্রাম পটল কিনলেন ৬০ টাকায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ এক কেজি পটল কিনতাম যদি দাম আরো কম হত। কিনলাম হাফ কেজি, কারণ দাম বেশি। আমরা পরিবারে ৪ সদস্য।”
টাউনহল বাজারে শসা কিনতে এসেছেন নূর মোহাম্মদ। সবজি বিক্রেতা প্রতি কেজি দেশি শসা ১০০ কেজি দাম চাইলেন। নূর মোহাম্মদ বললেন ৮০ টাকা করে দিবেন। বিক্রেতা বললেন ৮০ টাকায় হাইব্রিড শসা দেওয়া সম্ভব, দেশি টা নিতে গেলে ১০০ টাকাই দেওয়া লাগবে। নূর মোহাম্মদ শশা না নিয়েও অন্য দিকে যাচ্ছেন।
এ সময় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবজির দাম তো কমার কোন লক্ষণ নেই। উচ্চ কোলেস্টেরলের জন্য ডাক্তার মাংস কম খেয়ে সবজি বেশি খেতে বলেছে। আমাকে শসা খেতে বলেছেন। আর ১০০ টাকা কেজি, পুরো ফাইজলামি চলছে সবজির বাজারে।”

শুক্রবার মহাখালীর কাঁচাবাজারে চিকন লম্বা আকৃতির প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হয় ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর বড় গোল আকৃতির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
অন্যান্য সবজির দামও চড়া। আগের সপ্তাহের মতো করলা ও ঢেঁরসের কেজি পড়ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। পটল ৮০ থেকে ১০০, ধুন্দল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০- ৮০ টাকা ও কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এগুলোর বাইরে ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ ও কাঁচামরিচ প্রকারভেদে ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
আকৃতিভেদ একেকটি লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটোর কেজি ১৪০ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ১২০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
মাঝারি ধরনের লেবুর হালি মিলছে ২০ টাকাতেই। আর বড় আকারের লেবু ৫০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। একেকটি চাল কুমড়া চাওয়া হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। ধনেপাতার কেজি পড়েছে ৪০০ টাকা।
অন্যান্য সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মুলা ৬০ ও মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি আলু মিলছে আগের মতোই ২০ থেকে ২৫ টাকায়।