১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যুতে বাংলাদেশি শিল্পীর ম্যুরাল

সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যুতে বাংলাদেশি শিল্পীর ম্যুরাল
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এ ম্যুরালটির শিল্পী বাংলাদেশি জিহান ওয়াজেদ।

বিডিনিউজ২৪

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jun 2026, 12:13 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:26 PM

এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। নতুন চ্যাম্পিয়নের হাতে এখানেই তুলে দেওয়া হবে স্বপ্নের কাপ। আর এ স্টেডিয়ামের ভিআইপি লাউঞ্জে ম্যুরাল এঁকেছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণ শিল্পী জিহান ওয়াজেদ।

লাউঞ্জটির সৌন্দর্য বাড়াতে ৪০ ফুট দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থের চিত্রকর্মটিতে নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী নিদর্শনগুলো।

সাড়ে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মেটলাইফ স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অনন্য সাজে সাজানো হয়েছে স্টেডিয়ামটি। 

বুধবার এ স্টেডিয়ামে নিজেদের গ্রুপের প্রথম ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হয়েছিল ফ্রান্স। আগামী ১৯ জুলাই এখানেই অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ।

শিল্পী জিহান ওয়াজেদ।

শিল্পী জিহান ওয়াজেদ।

জিহান ওয়াজেদের জন্ম লিবিয়ার বেনগাজিতে। তার পিতা ওয়াজেদ এ খান নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ‘সাপ্তাহিক বাংলাদেশ’-এর সম্পাদক।

নিউ ইয়র্কেই শিক্ষাজীবন শুরু জিহানের। পড়াশোনা করেছেন স্টাইভ্যাসেন্ট হাইস্কুলে এবং ম্যাকাউলে অনার্স প্রোগ্রামের অধীনে বারুখ কলেজ থেকে পারসেপচুয়াল সাইকোলজিতে।

ম্যানহাটনের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে স্টুডিও রয়েছে জিহান ওয়াজেদের। শুধু স্টেডিয়াম নয়, শিল্পী জিহানের আঁকা দেয়ালচিত্র সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের।

তার অন্যতম শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবন, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-ফোর, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স বিলি জিন কিং ন্যাশনাল টেনিস সেন্টার, কুইন্স হাসপাতালে সাড়ে বারোশ বর্গফুটের ম্যুরাল, এস্টোরিয়ায় ৭০০ ফুট দীর্ঘ অগমেন্টেড রিয়ালিটি ম্যুরাল, এবং এস্টোরিয়ায় ১৭৭ ফুট দীর্ঘ ‘ওয়েলকাম এস্টোরিয়া’ ম্যুরাল।

জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে জিহান ওয়াজেদের ম্যুরালটির পাশে রয়েছে শিল্পীর পরিচিতিও।

জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে জিহান ওয়াজেদের ম্যুরালটির পাশে রয়েছে শিল্পীর পরিচিতিও।

বাংলাদেশের চিরায়ত ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলিও স্থান পাচ্ছে তার আঁকা ম্যুরালে। চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ভাস্কর্য, কোরিওগ্রাফি এবং সৃজনশীল নানা মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত জিহান ওয়াজেদ।

জিহান জানান, তার শুরুটা ছিল গ্রাফিতি দিয়ে। সেখান থেকেই তিনি খুঁজে নিয়েছেন ম্যুরালের নিজস্ব নতুন ধারা। তার এই শৈলী পছন্দ করছেন নিউ ইয়র্কের শিল্পসমালোচকরা।

চিত্রকর্মের ওপর তার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও শৈশব থেকেই ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক। গত বছর অক্টোবরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।