Published : 13 Jun 2026, 11:15 PM
সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম ফের বেড়েছে। ডিম, ডাল ও কয়েকটি সবজির দামও চড়েছে।
ক্রেতারা বলছেন, চাল, ডাল, তেল ও ডিমসহ ভোগ্যপণ্য আগের মতো বাড়তি দামেই কিনছেন তারা।
আর ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহের ওপরই দামের উঠা-নামা নির্ভর করে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম এমনিতেই কমবে।
তারা বলছেন, বাজেট প্রস্তাবের কোনো প্রভাব এখনো বাজারে পড়েনি।
রাজধানীর পলাশী কাঁচাবাজারে শনিবার বেলা ১২টার দিকে মা-বাবার দোয়া চিকেন হাউজ থেকে কক মুরগি কিনছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার।
লালবাগের ছাতাওয়ালা মসজিদের পাশেই তার বাসা। সাপ্তাহিক কেনাকাটা এই বাজার থেকেই করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বাজারে পণ্যের দামে কোনো হেরফের নেই।”

প্রতি শনিবার পলাশী বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আসেন এই ব্যাংক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, “আপনারা পেপার-পত্রিকায় বাজেটের খবর দেখান, এটার ওটার দাম কমছে। যে চিংড়ি কিনতাম (কেজি) ৬০০ দিয়ে, এখন ৯০০/১০০০, মুরগি ৪০০ টাকা। মুদি, মসলা সব জিনিসের দাম আগে থেকেই বেশি। কমল কী?”
বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই বাজেট কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে।
সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে বাজেটে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিজাত ৬০ পণ্যের ওপর উৎস করের হার কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পোল্ট্রি, ডেইরি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনের তিনটি কাঁচামালকে শূন্য শতাংশ রেয়াতের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পোল্ট্রি ও ডেইরি খাতের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতেও শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই ঘোষণায় ভোগ্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়বে, এমন আশা করেছিলেন ভোক্তারা।

কিন্তু শনিবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ডাল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকায়। আর সয়াবিন তেল আগের মতোই লিটার প্রতি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একমাস আগে থেকেই বাড়তি ছিল চালের দাম। সেই দামেই শনিবার বাজারে বিক্রি হয। প্রতি কেজি ফাইজাম চাল ৬৫ টাকা, আতপ ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, সরু চাল ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। আর প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।
মোহাম্দপুর কাাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা ৫৫ বছর বয়সি আবুল কাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তেলের দাম বেশি বেশি। চালের দাম আগে থেকেই বেশি। মসুরির ডাল যেটা ছিল ১৪০ টাকা, সেটা এখন ১৬০ টাকা। ১০০ টাকার ডালটা কিনছি কালকে কিনছি ১২০ টাকায়।”
সরকার চাইলেও চালের দাম কমাতে পারবেন না বলে মনে করেন এ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আবুল বাশার।
“চালের দাম সরকার কমাইতে পারবে না। মিলাররাই কমাতে পারবে। গত মাস থেকে চালের বাজার অস্থির। ‘ইন্ডিয়ান এলসি’ যেটা ছিল, সেটা বন্ধ হওয়ার পরপরই চালের মিলাররা একটা সুযোগ পেয়ে গেল। তারা প্রতি কেজি ৭/৮ টাকা বাড়িয়ে দিল।”

চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে চাল আমদানির অনুমতি উন্মূক্ত করে দেওয়ার কথা বলেন আবুল বাশার।
সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম আবার বেড়েছে। শনিবার এ মুরগি বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৬৫ টাকা।
সোনালী জাতের মুরগিও আগের মতোই ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ৪০০ টাকায় কিনছেন ক্রেতারা।
লাল ডিমের হালি ৪৫ টাকা ও সাদা ডিম ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দামের বিষয়ে পলাশী বাজারের খালেক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী খালেক বলছিলেন, “বাজারে মাল থাকলে কমব, না থাকলে বাড়ব। সহজ হিসাব।
“ঈদের পর থেকে ধীরে ধীরে কমছে। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগির দাম এখন ২০০ টাকার নিচে আছে। মাঝে এক সপ্তাহ কিছুটা কমেছিল। তবে ডিমের দাম বাড়ছে। বাজারে মাল আসলে কমবে।”
সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচামরিচ গত সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি বিক্রি হয় ১২০ টাকায়।
প্রতি কেজি গোল বেগুন ৯০ টাকা, আর লম্বা বেগুন ৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে লম্বা বেগুনে দাম দ্বিগুণ বেড়েছে, গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা কেজি। ২০ টাকা বেড়ে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

আলু ৫ টাকা বেড়ে ৩৫ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ২০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। আগের সপ্তাহের মতোই ধুন্দল বিক্রি হয় ৬০ টাকা, আর চিচিঙ্গা ৮০ টাকা কেজি দরে।
কাঁচা পেঁপে বিক্রি হয় কেজি ৫০ টাকা দরে। এক সময়ে ৩০ টাকা কেজির এ পেঁপে ঈদের আগ পর্যন্ত ৮০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। এছাড়া মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পলাশী বাজারের কথা হয় মোহাম্মদ শিহাবের সঙ্গে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “গত বছর থেকে নিয়মিত বাজার করতে হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো জিনিসের দাম বাড়ে।”
পণ্যের দাম কমানের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আগে থেকেই বেশি দামে দ্রব্যমূল্য কিনতে হচ্ছে।”
“বাজারে ঘোরেন, কোনো সবজিই ৮০/৯০ টাকার কমে পাবেন? এই দেখেন, পেঁপে রান্না করে মাইনষে খেত না। এখন পেঁপের কেজি ৫০ টাকা। একটা জিনিসের দাম কমালে কি হইব। অন্যদিকে তো আরেকটার দাম বাড়াইছে।”
তবে সবজির দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে মনে করেন হাতিরপুল বাজারের সবজি বিক্রেতা সাদেক হোসেন।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সবজির দাম তুলনামূলক কম। আড়তে সবজি পর্যাপ্ত পাই। তবে বাজেটের পর দামে কোন পরিবর্তন হয়নি।”