Published : 23 Aug 2022, 10:26 PM
‘অন্যায়ভাবে’ চাকরিচ্যুত করে অবসর-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২২৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কোম্পানরি সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।
ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সোমবার দায়ের করা এ মামলায় রবি আজিয়াটা লিমিটেড ছাড়াও গ্রুপের সাবেক সিইও ইজাদ্দিন ইদ্রিস, রবির বর্তমান বোর্ড চেয়ারম্যান থায়াপরান এস সাঙ্গারা পিল্লাই এবং আরও দুজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
বাদীর আইনজীবী হাসান এম এস আজিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মাহতাব উদ্দিন ২০২১ সালের ২ অগাস্ট পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা ওই বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। রবির পরিচালনা পর্ষদ ৫ অগাস্ট ‘নিঃশর্তভাবে’ সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা চিঠি দিয়ে জানায়।
কিন্তু ২০২২ সালের ২২ মে রবি আজিয়াটা গ্রুপ মাহতাব উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত করার নোটিস দিয়ে ভূতাপেক্ষে তা কার্যকর করার কথা জানায়।
“ব্যক্তিগত আক্রোশ চরিতার্থ করতে মাহতাব উদ্দিনকে তার প্রাপ্য অবসর-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার জন্য” রবি ওই পদক্ষেপ নেয় অভিযোগ করে প্রাপ্য অবসর সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ২২৭ কোটি ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০২ টাকা দাবি করা হয়েছে মামলায়।
এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে রবি এক বিবৃতিতে বলেছে, মামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাই এখন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
মাহতাব উদ্দিন ২০১০ সালে রবির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) পদে যোগ দিয়ে ২০১৬ সালে সিইও হন। পরের পাঁচ বছর তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।
আইনজীবীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলায় বলা হয়েছে, ইজাদ্দিন ইদ্রিস আজিয়াটা গ্রুপের সিইও এবং পরে জিসিইও হওয়ার পর থেকেই মাহতাবকে ‘চ্যালেঞ্জের’ মুখে পড়তে হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে এর কারণ ছিল মাহতাবের দীর্ঘ দিনের ‘বকেয়া বেতন নিয়ে বিরোধ’। পরে অন্যান্যা ঘটনায় সেই বিরোধ আরও জটিল হয়।
এই প্রেক্ষাপটে জিসিইও ইজাদ্দিন ইদ্রিস একাধিকবার লিখিতভাবে মাহতাবকে ‘হুমকি’ দিয়েছিলেন বলেও তার আইনজীবীর ভাষ্য।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাহতাব পদত্যাগ করার পর ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর রবি হঠাৎ করে ২০১৯ সালের একটি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তাকে ‘কারণ দর্শাও’ নোটিস পাঠায়, যদিও ওই লেনদেনের বিষয়ে আজিয়াটা গ্রুপ ও রবির বোর্ড ‘অবগত’ ছিল।
এরপর ওই বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে রবি। মাহতাবের মামলায় বলা হয়েছে, অনিয়মের ওই অভিযোগ ছিল ‘সম্পূর্ণ অসত্য’। ২০২১ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতেও ওই আর্থিক লেনদেন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয়নি।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রবির ৬১ দশমিক ৮২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে মালয়েশিয়ার বহুজাতিক কোম্পানি আজিয়াটার হাতে। এছাড়া ভারতী এয়ারটেল ২৮ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বাকি ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক।