Published : 04 Apr 2026, 10:19 PM
জ্বালানি সাশ্রয়ে গরমের এ সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শনিবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে দোকান মালিক সমিতিসহ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আপাতত তিন মাসের জন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সূচিতে সমন্বয় করা যেতে পারে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে গ্রীষ্মকাল ও সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রতি এ আহ্বান জানান মন্ত্রী।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলার আশ্বাস দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। পাশাপাশি তারা সরকারের কাছে কয়েকটি সুপারিশ ও দাবি তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী সাময়িক সময়ের জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ জানান এবং তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে, ব্যাংক লেনদেন হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।
একই সঙ্গে দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জরুরি সেবা এ বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে। সরকার বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ সামাল দিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের পরদিন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি সময়সূচি পুনর্বিবেচনার দাবি তোলে।
সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সকাল ৯টার বদলে বেলা ১১টা থেকে দোকান খুলে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু রাখার সুযোগ চায়।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার এ বৈঠকে টুকু বলেন, মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।